দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এবার লাতিন আমেরিকার আরেক রাষ্ট্র কিউবাকে হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিকে ‘সমঝোতা করার’ আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, তা না হলে পরিণতি ভোগ করতে হবে। ভেনেজুয়েলা থেকে আসা তেল ও অর্থের প্রবাহ এখন বন্ধ হয়ে যাবে।
এছাড়া দেশটিকে দখলে নিলে পরবর্তী শাসক কে হবেন সে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। রোববার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এমন হুমকি দেন। খবর বিবিসি
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র, ধারণা করা হয় প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল দ্বীপটিতে পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর থেকেই ট্রাম্প কিউবার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
এর জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই’ জ্বালানি আমদানির অধিকার কিউবার রয়েছে। আর দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা কী করব, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।’
ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল ইতোমধ্যে কিউবায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র করেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র একটি পঞ্চম তেল ট্যাংকার জব্দ করে, যেটিতে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল বহন করা হচ্ছিল বলে তারা দাবি করে।
রোববার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থ পেয়েছে। বিনিময়ে কিউবা শেষ দুই ভেনেজুয়েলান স্বৈরশাসকের জন্য ‘‘নিরাপত্তা সেবা’’ দিয়েছে, কিন্তু আর নয়!’
তিনি আরও বলেন, ‘কিউবার দিকে আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না—শূন্য! আমি জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, সময় থাকতে থাকতে তারা যেন একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।’
ট্রাম্প কোনো সমঝোতার শর্ত বা কিউবা কী ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে পারে, তা স্পষ্ট করেননি।
কিন্তু কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, যেকোনো আগ্রহী রপ্তানিকারক দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপমূলক ব্যবস্থার কাছে নতিস্বীকার বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই জ্বালানি আমদানির পূর্ণ অধিকার কিউবার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিউবা অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল বা সামরিক চাপ’ প্রয়োগ করে না।
ট্রাম্প মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন। তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগের মুখোমুখি।
কিউবা বহু বছর ধরে মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী সরবরাহ করে আসছিল। কিউবান সরকার জানিয়েছে, কারাকাসে চালানো মার্কিন অভিযানে তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘গত সপ্তাহের মার্কিন হামলায় ওই কিউবানদের অধিকাংশই মারা গেছে, এবং ভেনেজুয়েলার আর সেসব গুন্ডা ও চাঁদাবাজদের কাছ থেকে সুরক্ষার প্রয়োজন নেই, যারা এত বছর দেশটিকে জিম্মি করে রেখেছিল।’
জবাবে রদ্রিগেজ বলেন, ‘কিউবা কখনোই কোনো দেশকে দেওয়া নিরাপত্তা সেবার জন্য অর্থ বা বস্তুগত কোনো বিনিময় গ্রহণ করেনি।’
কিউবা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা না করলেও, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন— সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই, কারণ দেশটি ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন, কিউবার নেতাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, তিনি যদি কিউবান সরকারের অংশ হতেন, তবে ‘চিন্তিত হতেন’, কারণ ‘তারা বড় বিপদে আছে’।
রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে— ফ্লোরিডার কিউবান-আমেরিকান সাবেক সিনেটর এবং কিউবান নির্বাসিতদের সন্তান মার্কো রুবিও কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। ট্রাম্প সেই পোস্টটি শেয়ার করে মন্তব্য করেন, ‘শুনতে তো ভালোই লাগছে আমার কাছে!’
এবি/