দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর দেশটিতে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রশাসনের জন্য এই বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক আগে ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন জ্বালানি কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে আবারও বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সক্রিয় করার লক্ষ্য রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের।
তবে তেল খাত–সংশ্লিষ্ট চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বড় তেল কোম্পানি—এক্সন মোবিল, কনোকোফিলিপস ও শেভরন—এখনও মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেনি।
এটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে মাদুরো আটক হওয়ার আগে ও পরে তিনি সব মার্কিন তেল কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
একটি সূত্র সোমবার রয়টার্সকে জানায়, এখন পর্যন্ত ওই তিনটি কোম্পানির কেউই ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে—ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বা পরে—হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আলোচনা করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ও রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে বহু বছরের পরিশ্রম এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। একসময় ওপেকভুক্ত এই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদের অধিকারী এবং এর তেল বিশেষভাবে নকশা করা কিছু মার্কিন পরিশোধনাগারে পরিশোধন করা যায়।
এখনও স্পষ্ট নয়, আসন্ন বৈঠকে কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নেবেন কিংবা বৈঠকগুলো আলাদাভাবে না যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্প ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুত।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহী, যা দেশটির তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
এর আগে ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য তেল কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ভর্তুকি দিতে পারে। তিনি বলেন, সামরিক অভিযানের আগে তেল কোম্পানিগুলোকে সরাসরি কিছু জানানো হয়নি, তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
এদিকে, সিবিএস নিউজ একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তিনটি বড় তেল কোম্পানির নির্বাহীরা বৃহস্পতিবার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
তবে তেল শিল্প–সংশ্লিষ্ট এক নির্বাহী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতা আইন বা অ্যান্টিট্রাস্ট–সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে কোম্পানিগুলো হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক হতে পারে।
এবি/