দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মাদক পাচারসহ একাধিক অভিযোগে তার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। একই সময়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে। ১৯৮৯ সালে পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর এটিই লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। মাদুরোর ১৩ বছরের শাসনামলের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনো দেশটির প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। শুরুতে তারা কঠোর অবস্থান নিলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে স্বৈরশাসক ও মাদকচক্রের নেতা হিসেবে আখ্যা দিলেও ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের প্রতি আগ্রহ গোপন করেননি। ভেনেজুয়েলার তেলের মজুত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হলেও অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও নিষেধাজ্ঞার কারণে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।
মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ডেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে ঘটনাটিকে অপহরণ ও তেল দখলের চেষ্টা বলে আখ্যা দিলেও রোববার অবস্থান কিছুটা নরম করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চান তারা।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সহযোগিতার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের অঞ্চল যুদ্ধ নয়, সংলাপ ও শান্তি চায়।’
এদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা সহযোগিতা না করলে নতুন করে হামলা হতে পারে। তেল খাত খুলে দেওয়া ও মাদক পাচার বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও কিউবাকেও সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে সোমবার তাদের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরো আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র পরিচালনা করেছেন এবং মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
ভেনেজুয়েলার ভেতরে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। মাদুরোবিরোধীরা প্রকাশ্যে উদযাপন থেকে বিরত রয়েছেন। সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য অস্থিরতার আশঙ্কায় খাদ্য ও ওষুধ মজুত করছেন।
এই ঘটনার প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়েছে। ভেনেজুয়েলার বন্ডের দাম বেড়েছে, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারে উত্থান দেখা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের এই অভিযানের বিরোধিতা করেছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। তবে ট্রাম্পের বেশিরভাগ সমর্থক এটিকে দ্রুত ও সফল অভিযান হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/