দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনের সৌদি আরব সমর্থিত সরকার শুক্রবার আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সরকারের দাবি, পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশে তারা একটি বড় সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, হাদরামাউতে পরিচালিত এই অভিযান দেশটিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সর্বশেষ ধাপ। গত ডিসেম্বর থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দুই দেশ ইয়েমেনের বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। একসময় আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঘনিষ্ঠ অংশীদার হলেও তেল উৎপাদন কোটা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হয়ে পড়েছে।
হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আহমেদ সাঈদ আল-খুনবাশি বলেন, তার বাহিনী আল-খাশা এলাকায় অবস্থিত প্রদেশটির সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর আগে তিনি এই অভিযানকে ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তবে আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এসটিসির নেতা আমর আল-বিধ বলেন, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছে। তার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়। সৌদি আরব এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি এবং হতাহতের তথ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হাদরামাউতের গভর্নরকে পূর্বাঞ্চলে ‘হোমল্যান্ড শিল্ড’ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করা হয়েছে। তাকে সামরিক, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গভর্নর বলেন, এটি যুদ্ধের ঘোষণা নয়, বরং নিরাপত্তার জন্য সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেওয়া এবং হাদরামাউতকে অরাজকতা থেকে রক্ষা করাই লক্ষ্য।
তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশটি সৌদি আরবের সীমান্তঘেঁষা এবং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অঞ্চলটি সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসটিসির মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-নাকিব বলেন, পুরো অঞ্চলে তাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং প্রয়োজনে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি সমর্থিত সরকারের সাঁজোয়া যানগুলো আল-খাশা ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এই ক্যাম্পে হাজার হাজার সেনা রাখার সক্ষমতা রয়েছে এবং গত ডিসেম্বরে এটি এসটিসির নিয়ন্ত্রণে যায়। আমিরাত সমর্থিত এসটিসি গত মাসে দক্ষিণ ইয়েমেনের বড় অংশ দখলে নেয়, যা সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হয়।
এদিকে গত সপ্তাহে আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহার করছে। সৌদি আরবের অনুরোধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বানের পর এই সিদ্ধান্ত আসে, যা দুই দেশের মধ্যে অন্যতম বড় প্রকাশ্য মতবিরোধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব তেল রাজনীতিতেও পড়তে পারে। সৌদি আরব ও আমিরাত দু’দেশই ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। রোববার ওপেক প্লাসের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রথম প্রান্তিকের তেল উৎপাদন অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইয়েমেনের আদেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবের ইয়েমেনবিষয়ক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের অভিযোগ করেন, এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি সৌদি প্রতিনিধিদলের বহনকারী বিমানের অবতরণের অনুমতি দেননি। বৃহস্পতিবার থেকে আদেন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে এসটিসি নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিমান অবরোধ আরোপের অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, রিয়াদ সব ফ্লাইটকে অতিরিক্ত তল্লাশির জন্য সৌদি আরব হয়ে চলাচলের শর্ত দিয়েছে। আদেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে ইয়েমেনের প্রধান বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/