দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পরিবার মৃত বলেই ধরে নিয়েছে, কিন্তু ২৯ বছর পর আচমকাই বাড়িতে হাজির হয়েছেন শরিফ আহমেদ (৭৯)। ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফ্ফরপুরের খাতাউলিরে এই ঘটনা ঘটে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। তার নথিপত্র নিতেই তিন দশক পরে নিজের বাড়িতে গিয়েছেন তিনি। আর এতেই হইচই পড়ে গেছে পুরো এলাকায়।
পরিবারের দাবি, ১৯৯৭ সালে শরিফের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তারপরে দ্বিতীয় বিয়ে করে নিখোঁজ হন শরিফ। দ্বিতীয় স্ত্রী যদিও শ্বশুরবাড়িতে একটা ঠিকানা দিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে দাবি শরিফের ভাতিজা ওয়াসিম আহমেদের।
নিজের বাড়িতে পৌঁছে শরিফের মুখে একগাল হাসি। জানতে পেরেছেন, বাবা, ভাই-সহ পরিবারের অনেক সদস্যই ইতিমধ্যে মারা গেছেন। অনেককে আবার প্রথমবার দেখছেন। এক এক করে পরিচিত হন। কাউকে দেখে জড়িয়ে ধরেন। কারো মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। শরিফকে দেখতে ভিড় জমান তার প্রতিবেশীরাও।
প্রথম পক্ষের চার মেয়ে উত্তরপ্রদেশেই থাকতেন। তাদের বিয়ে হয়ে গেছে বলে বাড়ি ফিরে খবরও পেয়েছেন তিনি। গত ২৯ ডিসেম্বর খাতাউলিতে যান শরিফ।
তার ভাতিজা ওয়াসিম বলেন, অনেক খুঁজেছি। পশ্চিমবঙ্গেও গিয়েছিলাম। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর দেওয়া ঠিকানাতেও যাই। কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি। দীর্ঘ কয়েক দশক কোনো যোগাযোগ না থাকায়, তার চার মেয়েসহ আমরা সবাই ধরে নিই, তিনি বোধহয় আর বেঁচে নেই।
শরিফ নিজেই জানান, ভোটারতালিকা হালনাগাদের কাগজপত্র খুঁজতেই তাকে ফের জন্মভূমিতে ফিরতে হয়েছে। এত বছর পরে চাচাকে দেখে এখনও যেন ঘোর কাটছে না ওয়াসিমের।
তিনি বলেন, ‘অনেকেরই চোখে পানি চলে এসেছিল। এত বছর পরে তাকে দেখলাম। এক অন্য রকমের অভিজ্ঞতা।’বর্তমানে মেদিনীপুরে থাকেন শরিফ। খাতাউলিতে অল্প সময় কাটিয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গে ফিরে গিয়েছেন। এখন শুধু ঝামেলাহীন ভোটারতালিকা হালনাগাদ হওয়ার অপেক্ষায় তিনি। সূত্র: এই সময়
কে