দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রায় পাঁচ বছর পর রোববার মিয়ানমারে বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সামরিক জান্তা দাবি করছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরবে। তবে অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং দেশটির বড় একটি অংশে ভোটই হচ্ছে না।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ান ভোটাররা। তবে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সু চি কারাগারে বন্দি এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিলুপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মূলত সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দলগুলো। নির্বাচন ব্যাহত করা বা সমালোচনা করলে শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জারি করায় ইতোমধ্যে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গৃহযুদ্ধের কারণে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে ভোট হচ্ছে না। সেখানে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জাতিগত বিদ্রোহী ও গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর লড়াই চলছে। গত বছর এসব গোষ্ঠী সামরিক বাহিনীকে একাধিক বড় পরাজয় দিয়েছিল। তবে নতুন বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ আইন ও চীনা অস্ত্রের সহায়তায় এ বছর কিছু এলাকা পুনর্দখল করেছে জান্তা বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগিয়ে নির্বাচন আয়োজন করছে জান্তা। নতুন সংসদে এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশকে আবার সম্পৃক্ত করতে চায় সামরিক সরকার।
ইয়াঙ্গুনসহ বড় শহরে জাতীয় পতাকা ও সরকারি প্রচারণা দেখা গেলেও আগের নির্বাচনের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ নেই। দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র আন্দোলনের প্রতীক অং সান সু চি এবারের নির্বাচনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অভ্যুত্থানের পর তাকে একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক বাহিনী ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। গ্রাম পোড়ানো, বোমাবর্ষণ, গণহত্যা, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক সেনা নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।’
সমালোচকদের মতে, বিরোধী মত দমন করে এমন পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ‘মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কোনো পরিবেশ নেই।’
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি। জাপান ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশও সমালোচনা করেছে। তবে চীন ও রাশিয়া নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিন ধাপে ভোট হবে। প্রথম ধাপ রোববার, পরের ধাপ ১১ ও ২৫ জানুয়ারি। কবে ফল ঘোষণা করা হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।
সূত্র- সিএনএন
এমএস/