দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)–এর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই জিহাদি বিদ্রোহ চলমান বলে দাবি মার্কিন প্রশাসনের।
স্থানীয় সময় (২৫ ডিসেম্বর) রাতে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সোকোটো রাজ্যে এ হামলা চালানো হয়। খবর বিবিসি
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাইজারের সীমান্তবর্তী সোকোটো রাজ্যের আইএসের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ‘একাধিক’ আইএস সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বড়দিনের রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদকে বিকশিত হতে দেবেন না। বড়দিনের দিনে চালানো এই হামলা ছিল শক্তিশালী।’ তিনি গোষ্ঠীটিকে ‘সন্ত্রাসী আবর্জনা’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, ‘তারা মূলত নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে নৃশংসভাবে হত্যা করছিল।’
পরে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে একটি সামরিক জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়।
শুক্রবার সকালে নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের স্থায়ী হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাঠামোবদ্ধ নিরাপত্তা সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এর ফলেই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আকাশপথে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে।
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগ্গার বিবিসিকে বলেন, ‘এটি একটি যৌথ অভিযান এবং এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সম্পর্ক নেই।’
তুগ্গার জানান, ‘এই হামলার পরিকল্পনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল এবং এতে নাইজেরিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।’ তিনি ভবিষ্যতে আরও হামলার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
হামলার সময় নিয়ে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে বড়দিনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি যেকোনো দিনই হতে পারত—এর উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসীদের আঘাত করা, যারা নাইজেরিয়ানদের হত্যা করছে।’
নাইজেরিয়ার সরকার বহু বছর ধরে বোকো হারাম ও আইএস–সংশ্লিষ্ট বিভক্ত গোষ্ঠীসহ জিহাদি সংগঠনগুলোর জটিল নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নাইজেরিয়ান সরকারকে জিহাদি হামলা থেকে খ্রিস্টানদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছিল এবং সেখানে একটি ‘গণহত্যা’ চলছে বলেও দাবি করেছিল।
ট্রাম্প নাইজেরিয়াকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এবি/