দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন ইসরায়েলি বসতিকে বসবাসের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। বসতি সম্প্রসারণ নীতি আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার।
ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ—যিনি নিজেও একজন বসতিস্থাপক—প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। স্মোটরিচ বলেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে রুদ্ধ করা। খবর বিবিসি
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বসতি সম্প্রসারণ একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।
২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যেই নতুন বসতি অনুমোদনের ফলে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে।
২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ১৯টি নতুন বসতি অনুমোদনের ফলে গত তিন বছরে মোট অনুমোদিত বসতির সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯টিতে।
নতুন বসতিগুলো জেনিন ও কাদিম এলাকায় অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে এসব এলাকায় বসতি উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এবার সেখানে পুনরায় বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে।
জাতিসংঘ কয়েক দিন আগেই জানিয়েছিল, ২০১৭ সালের পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পরপরই এই সিদ্ধান্ত এলো।
আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র বিরোধিতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। সে সময় স্মোটরিচ মন্তব্য করেছিলেন, এই পরিকল্পনা ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেবে’।
ইসরায়েলি বসতিবিরোধী সংগঠন পিস নাউ-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৬০টি বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতিস্থাপক বসবাস করছে। এই ভূখণ্ডকেই ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য দাবি করে।
বসতি সম্প্রসারণের ফলে আরব দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, এই নীতি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এতে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার (অ্যানেক্সেশন) আশঙ্কাও বাড়ছে।
এবি/