দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তাইওয়ানে ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা) নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এই বিক্রির আওতায় ড্রোন, রকেট, আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ মোট ৮টি পৃথক অস্ত্র প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র–চীন উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয়ভাবে সম্প্রচারিত ভাষণের সময় এই অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়। খবর আল জাজিরা
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির মধ্যে রয়েছে ৮২টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রকেট সিস্টেম এবং ৪২০টি আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম, যার মোট মূল্য ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র যে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এছাড়া চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৬০টি স্বয়ংক্রিয় হাউইটজার আর্টিলারি সিস্টেম ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম এবং ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের বিভিন্ন ধরনের ড্রোন।
প্যাকেজের অন্যান্য বিক্রির মধ্যে রয়েছে— ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সামরিক সফটওয়্যার, ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের জ্যাভেলিন ও ট্যাংক বিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র, ৯৬ মিলিয়ন ডলারের হেলিকপ্টারের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ৯১ মিলিয়ন ডলারের হারপুন ক্ষেপণাস্ত্রের সংস্কার কিট।
এছাড়া, সামরিক ইউনিটগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ‘ট্যাকটিক্যাল মিশন নেটওয়ার্ক’ নামে পরিচিত একটি ব্যবস্থার ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ক্রয় অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার, সরঞ্জাম ও সেবাও অন্তর্ভুক্ত।
পাশাপাশি ৯১.৪ মিলিয়ন ডলারের হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত সহায়তা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, এবং ৯৬ মিলিয়ন ডলারের এএইচ-ওয়ানডব্লিউ সুপারকোবরা হেলিকপ্টারের খুচরা যন্ত্রাংশ ও মেরামত সেবার বিক্রয়ও অনুমোদন পেয়েছে।
এই ঘোষণার ফলে ৩০ দিনের একটি আইনসভা পর্যালোচনা সময় শুরু হয়েছে, যার মধ্যে কংগ্রেস যৌথ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিক্রয় বাতিল করতে পারে। তবে কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে কংগ্রেস কখনোই সফলভাবে এমন কোনো অস্ত্র বিক্রয় ঠেকাতে পারেনি।
অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, এসব বিক্রি তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণ এবং ‘প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা’ বজায় রাখতে সহায়তা করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয়, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্টের দপ্তর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল অস্ত্র বিক্রি চীনকে ক্ষুব্ধ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার হুমকি দিয়ে আসছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আত্মরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং দ্রুত শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত সহায়তা করে যাচ্ছে।’
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, ‘তাইওয়ান তার প্রতিরক্ষা জোরদার করতে এ খাতে সংস্কার অব্যাহত রাখবে, যাতে নিজেদের রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করা যায় এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত করা যায়।’
চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর বুধবার জানায়, তারা তাইওয়ান সম্পর্কিত বিল পাসের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক সম্পর্কের ঘোর বিরোধিতা করে।
এবি/