দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের বিহারে নির্মমভাবে পেটানোর ফলে মোহাম্মদ আতহার হুসাইন (৪০) নামে গুরুতর আহত এক ব্যবসায়ীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, চুরির অপবাদ দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পেটানো হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে ছিলেন।
নিহত মোহাম্মদ আতহার হুসাইন রাজ্যের নালন্দা জেলার গগন দিওয়ান এলাকায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। গত ১২ ডিসেম্বর স্থানীয় পওয়াপুরি হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় বিহার পুলিশ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। খবর দ্য হিন্দু
পুলিশের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৬ ডিসেম্বর আতহারের স্ত্রী শবনম পারভীন মামলা দায়ের করে। এফআইআরে তিনি ১০ জনকে অভিযুক্ত করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে— তারা তার স্বামীকে চুরির অপবাদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পিটিয়েছে।
‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেটানো হয়েছিল’
নিহতের ভাই মোহাম্মদ শাকিব স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আতহারের শ্বশুরবাড়ি নওয়াদার রোহ থানার মৰুই গ্রামে। হুসাইন সেখানে থাকতেন এবং সাইকেলে কাপড় বিক্রি করে পরিবারে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
শাকিব বলেন, ‘৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা প্রায় ৭টায় আতহার বাড়ি ফেরার সময় তার সাইকেলের টায়ার পাংচার হয়ে যায়। ভট্টাপুর গ্রামের কাছে তিনি কয়েকজনকে আগুনের পাশে বসে দেখে সাহায্য চাইতে যান। তারা তার নাম জানতে চাইলে, আতহার হুসাইন নামটি শুনে পোড়া কাঠ দিয়ে মারতে শুরু করে। পরে কানের অংশ, পা ও আঙুল কেটে ফেলে। তাকে একটি ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে মাথা ও বুকে মারধর করা হয়। লোহার রড ও তার প্রস্রাবনালীতে ঢুকানো হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পিটিয়ে অচেতন হওয়ার পর তাকে মধ্যরাতে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়।’
পরে তাকে প্রথমে স্থানীয় রোহ প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়, এরপর নওয়াদা সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে পওয়াপুরিতে রেফার করা হয়, যেখানে তিনি মারা যান।
শবনম পারভীন জানিয়েছেন, তার স্বামীকে ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করার পর পেটানো হয়েছিল। তিনি আমাদের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। আমার তিনটি ছোট সন্তান আছে। এখন আমি কীভাবে তাদের দেখাশোনা করব? যেভাবে তাকে পেটানো হয়েছে, পশুদের উপরও এমন মারধর হয় না। সব দোষীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত।’
নওয়াদা পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট অভিষেক ধীমন জানান, ‘ঘটনার গুরুত্বের কারণে সদর এসডিপিও নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চারজন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে আরও চারজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট আটজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
এদিকে এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল-এর মুখপাত্র এজাজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘হোম মিনিস্টার সম্রাট চৌধুরী প্রায়শই আইন-শৃঙ্খলার বড় কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে ধর্ম ও জাতের ভিত্তিতে মব চলছে এবং মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে মারা হচ্ছে।’
এবি/