দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা) মানহানি মামলা দায়ের করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিযোগে ট্রাম্পের দাবি, প্যানোরামা ডকুমেন্টারিতে ‘মিথ্যা, মানহানিকর, বিভ্রান্তিকরভাবে তাকে উপস্থাপন করা হয়’, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সম্প্রচার করে বিবিসি।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে ফ্লোরিডা রাজ্যের মিয়ামি ফেডারেল আদালতে এ মামলা করেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ান
প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে— ‘ট্রাম্প: অ্যা সেকেন্ড চান্স’ শীর্ষক ডকুমেন্টারিটি এমন ভাবে করা হয়েছিল যেন মনে হয় ট্রাম্প ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের বাইরে তার সমর্থকদের সরাসরি ক্যাপিটল আক্রমণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
‘প্যানোরামা ডকুমেন্টারি মিথ্যা দেখিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমর্থকদের বলেছিলেন— ‘‘আমরা ক্যাপিটলের দিকে হাঁটব এবং আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব। আর আমরা লড়াই করব। আমরা লড়াই করব জোরে, আর যদি তুমি জোরে লড়াই না করো, তোমাদের আর কোনো দেশ থাকবে না’’,’ মামলায় বলা হয়েছে। ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনো এই বাক্যাংশগুলো উচ্চারণ করেননি।’
অভিযোগপত্রে ট্রাম্প দুটি দফায় ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন: এক, বিবিসি তাকে মানহানি করেছে; দুই, এটি ফ্লোরিডার ‘ভুল এবং অবৈধ বাণিজ্য অনুশীলন আইন’ লঙ্ঘন করেছে।
বিবিসি এখনও মামলার বিষয়ে মন্তব্য করেনি। এর আগে তারা স্বীকার করেছিল, ডকুমেন্টারিটিতে ‘ভুল’ ছিল এবং ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। তবে তাদের বক্তব্য, মানহানি মামলার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
এ ঘটনায় গত মাসেই পদত্যাগ করেছেন বিবিসির পরিচালক জেনারেল টিম ডেভি এবং নিউজ প্রধান দেবোরাহ টার্নেস। তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন তখন, যখন ট্রাম্প, গাজা ও ট্রান্স ইস্যুতে বিবিসির ‘গুরুত্বপূর্ণ ও পদ্ধতিগত সমস্যা’ নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল।
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, মামলাটি ফ্লোরিডার দক্ষিণ জেলা মার্কিন জেলা আদালতে দায়ের করা হয়েছে, যদিও পর্বটি কখনো যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রচারিত হয়নি।
তবুও ট্রাম্পের আইনজীবী দল বলেছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সম্প্রচারিত তার ভাষণের সম্পাদনা ছিল নির্বাচনে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ’।
ট্রাম্পের আইনজীবীর কথায়, ‘বিবিসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কভারেজে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করেছে, সবই তাদের নিজস্ব বামপন্থী রাজনৈতিক এজেন্ডার লক্ষ্যে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শক্তিশালী মামলা বিবিসিকে তার মানহানি ও বেপরোয়া নির্বাচনী হস্তক্ষেপের জন্য দায়ী করছে, যেমন তিনি অন্যান্য মূলধারার মিডিয়াকেও তাদের ভুলের জন্য দায়ী করেছেন।’
এবি/