দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজার প্রধান প্রবেশদ্বার রাফাহ ক্রসিং কয়েক দিনের মধ্যেই খুলে দেওয়া হবে। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার হাজারো রোগী চিকিৎসার জন্য মিশরে যেতে পারবেন।
বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মানবিক বিষয়ক দপ্তর কো-গ্যাট জানায়, রাফাহ ক্রসিং খোলা হবে মিশরের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধানে—যেভাবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গাজার আগের সংঘবিরতির সময় ব্যবস্থাটি চালু ছিল।
জাতিসংঘের হিসেবে, গাজায় কমপক্ষে ১৬ হাজার ৫০০ রোগী জরুরি চিকিৎসার জন্য উপত্যকার বাইরে নেওয়া প্রয়োজন। যুদ্ধের আগেও অধিকাংশ গাজাবাসীর জন্য রাফাহই ছিল বাইরের দুনিয়ায় যাওয়ার একমাত্র গেটওয়ে, এবং এখান দিয়েই সহায়তার বড় অংশ ঢুকতো। যুদ্ধকালীন সময় এটি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
গাজার বাসিন্দা তামের আল-বুরাই বলেন, ‘আমরা মাসের পর মাস রাফাহ খোলার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে আমি এবং আরও হাজারো রোগী হয়তো সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবো।’
ইসরায়েল গত অক্টোবর থেকে দুই দিকেই রাফাহ ক্রসিং বন্ধ রেখেছে। তাদের দাবি—হামাসকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী গাজায় থাকা সব জিম্মিকে—জীবিত ও মৃত—ফেরত দিতে হবে।
এ পর্যন্ত হামাস ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে এবং বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো গাজায় রয়েছে দুই জন নিহত জিম্মির মরদেহ—একজন ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা ও এক থাই কৃষিশ্রমিক।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ জানিয়েছে, তারা রেড ক্রসকে সঙ্গে নিয়ে বাকি মৃত জিম্মিদের একজনের মরদেহ খুঁজছে। এর আগে হামাস এক সেট মানবদেহের অংশ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছিল, দাবি করেছিল যে এটি জিম্মিদের একজনের দেহাবশেষ। কিন্তু ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, সেটি কোনো জিম্মিরই নয়।
জিম্মিদের মুক্তি ছিল যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মূল শর্ত। এর পরের ধাপগুলো আরও জটিল—হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলের গাজা থেকে সরে যাওয়া, গাজার প্রশাসন পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সব বিষয়েই বড় বাধা রয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/