দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি পোশাকে একটি গণবিবাহে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ৫৪ দম্পতি। দুই বছরের ধ্বংস, মৃত্যু ও সংঘাতের পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবারের (২ ডিসেম্বর) এ গণবিবাহ ছিল এক বিরল মুহূর্ত।
গাজার চলমান যুদ্ধের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান বিরল হয়ে গেছে। তবে নাজুক যুদ্ধবিরতির পর এই ঐতিহ্য আবার ফিরতে শুরু করেছে। যদিও এখন আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন হয় না, তবুও নবদম্পতিদের জন্য এটি জীবনের এক ক্ষণিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার নবদম্পতিদের বহনকারী শোভাযাত্রা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের পাশ দিয়ে চলে। নবদম্পতিদের একটি সারি হাত ধরে এগোচ্ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন ইমান হাসান লাওয়া ও হিকমত লাওয়া।
ইমান বলেন, ‘সবকিছু সত্ত্বেও আমরা নতুন জীবন শুরু করব। ইনশাআল্লাহ, এই যুদ্ধের শেষ হবে।’ হিকমত যোগ করেন, ‘আমরা বিশ্বের অন্য সবার মতো সুখী হতে চাই। এক সময় আমার স্বপ্ন ছিল একটি বাড়ি, একটি চাকরি- আজ আমাদের স্বপ্ন শুধু একটি তাঁবু খুঁজে পাওয়া।’
ইমান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “এত শোকের পর আনন্দ অনুভব করা কঠিন। ইনশাআল্লাহ, আমরা ধীরে ধীরে সবকিছু পুনর্নির্মাণ করব।”
খবরে বলা হয়, দূর সম্পর্কের আত্মীয় ইমান ও হিকমত লাওয়া যুদ্ধকালে দেইর আল-বালাহ শহরে আশ্রয় নেন। মানবিক সংস্থা আল ফারেস আল শাহিম, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত, এই গণবিবাহের আয়োজন এবং নবদম্পতিদের জন্য অর্থ ও সামগ্রী প্রদান করেছে।
ফিলিস্তিনিদের কাছে বিবাহ সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এটি প্রায়শই বহু দিনের জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের মাধ্যমে উদযাপিত হয়, যেখানে থাকে নাচ-গান, শোভাযাত্রা, বিশেষ পোশাক ও প্রচুর খাবার।
বার্নার্ড কলেজের সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক রান্দা সেরহান বলেন, ‘প্রতি নতুন বিয়ের সঙ্গে নতুন সন্তান আসে, যা স্মৃতি ও বংশধারাকে বাঁচিয়ে রাখে। অসম্ভব পরিস্থিতিতেও জীবন চলতে থাকে।’
ইমান ও হিকমত ফিলিস্তিনি পতাকা নাড়ছিলেন, তাদের চারপাশে পরিবার ও বন্ধুরা নাচ ও সঙ্গীতের মাধ্যমে আনন্দ ছড়িয়েছে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজার সংঘাতে প্রায় ৭০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু, এবং ১,৭০,৯০০ এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ গাজার প্রায় সব অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
এবি/কে