দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বয়স কেবল ১৫; যে বয়সে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, সেই বয়সেই কোয়ান্টাম ফিজিক্সে পিএইচডি অর্জন করে বিশ্বকে চমকে দিল বেলজিয়ামের বিস্ময়কিশোর লরেন্ট সিমন্স। গত সপ্তাহে অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরাল থিসিস সফলভাবে ডিফেন্ড করার পর তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের অন্যতম কনিষ্ঠ পিএইচডিধারী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিজ্ঞানভিত্তিক ম্যাগাজিন সায়েন্স অ্যালার্টের তথ্যমতে, লরেন্ট শৈশব থেকেই ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান।
৪ বছর বয়সে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হওয়া লরেন্ট ৬ বছরেই তা শেষ করেন। ১২ বছর বয়সে তিনি অর্জন করেন কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি, যেখানে তার গবেষণার ক্ষেত্র ছিল বোসন ও ব্ল্যাক হোল।
প্রতিবেদন বলছে, লরেন্টের একটি ফটোগ্রাফিক মেমোরি আছে এবং তার আইকিউ ১৪৫, যা পৃথিবীর মাত্র ০.১ শতাংশ মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়।
পিএইচডি চলাকালীন তার গবেষণার উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল সুপারফ্লুইড–সুপারসলিড সিস্টেমে বোস পোলারন। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটে ইন্টার্নশিপের সময় তিনি কোয়ান্টাম অপটিক্স ও এআই–ভিত্তিক প্লাজমা বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার শনাক্তকরণে কাজ করেছেন।
তার কথায়, ‘প্রযুক্তির সাহায্যে ক্যান্সার রোগী ও সুস্থ ব্যক্তিকে আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব—এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।’
লক্ষ্য: মানুষের আয়ু বাড়ানো, ‘সুপার-হিউম্যান’ তৈরি:
লরেন্টের স্বপ্ন কেবল ডিগ্রি অর্জন নয়। এক সাক্ষাৎকারে এ ক্ষুদে পদার্থবিদ বলেন, ‘আমার লক্ষ্য মানুষকে সুপার হিউম্যান হিসেবে গড়ে তোলা। আমি এমন গবেষণা করতে চাই যা মানুষের আয়ু বাড়াতে পারে এবং একদিন মানুষকে জৈবিকভাবে প্রায় অমর করে তুলতে পারে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ গবেষণায় তিনি পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একত্রিত করতে চান।
বিশ্বজুড়ে আগ্রহ, কিন্তু পরিবারের সতর্ক সিদ্ধান্ত:
ব্রাসেলস টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একাধিক প্রযুক্তি–সংস্থা ইতোমধ্যে তাকে গবেষণার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে তার বাবা–মা সেই প্রস্তাবগুলো আপাতত নাকচ করেছেন।
লরেন্টের বাবা আলেকজান্ডার বলেছেন, ‘দুইজন লরেন্ট আছে—একজন বিজ্ঞানী, আরেকজন কেবল শিশু।’
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে লরেন্ট বলেন, ‘বিলিয়নিয়ারদের প্রস্তাব থাকতেই পারে। কিন্তু আমি এখনও নাবালক—সিদ্ধান্ত বাবা–মাকেই নিতে হয়। টাকা হলে হয়তো ল্যাব বানানো যাবে!’
পিএইচডি অর্জনের পর তিনি জার্মানির মিউনিখে গেছেন, যেখানে চিকিৎসা–বিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা করবেন।
এবি/কে