দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন। শনিবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এয়ারলাইন্স, পাইলট ও অপরাধচক্রগুলোকে সতর্ক করে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার উপর ও চারপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।’
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পদচ্যুত করতে চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা অভিবাসন ও মাদক পাচার রোধে এই ব্যবস্থা নিচ্ছে; তবে এর ফলে মাদুরো সরকারের ওপর সরাসরি রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ নির্দেশকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই অন্য দেশের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করতে পারে না। যদিও গত সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বড় এয়ারলাইন্সগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশে ‘ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির’ বিষয়ে সতর্ক করে। ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রী বা কার্গো ফ্লাইট সরাসরি ভেনেজুয়েলা যায় না, তবে কিছু মার্কিন এয়ারলাইন্স দক্ষিণ আমেরিকা রুটে ভেনেজুয়েলার আকাশ ব্যবহার করে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় সিআইএকে অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি মাদুরো সরকারকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যাতে ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক অভিযান চালানোর আরও সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দেন—স্থলপথে হামলাও শিগগিরই শুরু হতে পারে।
থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে সেনাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সাগরপথে এখন আর বেশি পাচার হয় না। এবার স্থলপথও বন্ধ করতে শুরু করব, খুব দ্রুতই।’
এ প্রেক্ষিতে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের অবস্থানের প্রশংসা করেন। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে ১৫ হাজারের বেশি সেনা ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে নৌ-হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে মাদুরো নিজের অবস্থানকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা সশস্ত্র প্রজাতন্ত্র। আমাদের জাতীয় অধিকার রক্ষায় প্রস্তুত থাকুন।’
ট্রাম্পের পররাষ্ট্র টিম, বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিল, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন—‘উপযুক্ত সময় এলে’ তিনি মাদুরোর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও মাদুরো ফোনেও কথা বলেছেন। আলোচনায় মাদুরো ইঙ্গিত দিয়েছেন—তিনি পদ ছাড়তে প্রস্তুত, তবে এর জন্য অন্তত ১৮ মাস সময় চান। তবে হোয়াইট হাউস বলছে—মাদুরোর ‘তাৎক্ষণিক প্রস্থান’ ছাড়া অন্য কোনো পরিকল্পনা তারা সমর্থন করবে না।
এদিকে ভেনেজুয়েলা জনগণের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—কেউ উদাসীন, কেউ উদ্বিগ্ন। গত এক দশকে দেশটি অর্থনৈতিক পতন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও ব্যর্থ অভ্যুত্থানসহ নানা সংকট দেখেছে।
কারাকাসের এক ক্যাফের কর্মী মারিলিন বলেন, ‘বোমা মারবে কি মারবে না—কে জানে? সত্যি বলতে কেউ কিছুই জানে না।’
এদিকে মাদুরো সরকারের দমন-পীড়ন অব্যাহত। মানবাধিকার সংগঠন প্রোভিয়া জানায়, শুধু অক্টোবরেই অন্তত ৫৪ জনকে মত প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অনেকে হোয়াটসঅ্যাপে সরকারবিরোধী বার্তা দেওয়ার কারণেও আটক হয়েছেন।
জনজীবনে এখনো বড় কোনো প্রভাব না পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আলোচনা ব্যক্তিগত পরিসরে চলছে। প্রকাশ্যে বরং ছুটির মৌসুমের সাজসজ্জা, ব্ল্যাক ফ্রাইডে ঘোষণার সঙ্গে প্রতিদিনের মতোই টিভিতে মাদুরোর ভাষণ শুনছে মানুষ।
সোমবার মাদুরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যা-ই করুক, ভেনেজুয়েলাকে হারাতে পারবে না। আমরা অজেয়।’
সূত্র: সিএনএন
এমএস/