দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সীমান্তের কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। মোট ৩০০ জনের একটি দল — যাদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা — দুই সপ্তাহ আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে একটি বড় নৌকায় যাত্রা শুরু করে। পরে তারা কয়েকটি ছোট নৌকায় ভাগ হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি নৌকাই ডুবে যায়।
ডুবন্ত নৌকাটি মালয়েশিয়ার পর্যটন দ্বীপ লাংকাউইয়ের কাছাকাছি এলাকায় ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।
উদ্ধার তৎপরতা দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। অনুসন্ধানের পরিধি বাড়িয়ে ১৭০ থেকে ২৫৬ বর্গ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান সাত দিন পর্যন্ত চলতে পারে। রবিবার পানিতে ভেসে ওঠা এক নারীর মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে, তিনি রোহিঙ্গা ছিলেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন রোহিঙ্গা এবং দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে প্রায় ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। অন্য ছোট নৌকাগুলোর অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
রোহিঙ্গারা মূলত মুসলিম একটি জাতিগোষ্ঠী, যারা মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ রাষ্ট্রে নাগরিকত্ববঞ্চিত। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু হওয়ার পর লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও সেখানে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবনবাজি রেখে নৌপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করে। মুসলিমপ্রধান দেশ হওয়ায় মালয়েশিয়াকে তারা তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখে।
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই বিপদসঙ্কুল সমুদ্রযাত্রার জন্য প্রত্যেককে তিন হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হয়। নৌকাগুলো ছোট ও গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করে, যেখানে পানি ও টয়লেটের মতো মৌলিক সুবিধাও থাকে না।
এসব নৌযাত্রা অনেক সময় গন্তব্যে পৌঁছায় না— কেউ কেউ সাগরে প্রাণ হারায়, আবার অনেকে আটক বা দেশান্তরিত হয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/