দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় কানাডায় পড়াশোনার সুযোগ কমে যাচ্ছে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য। সরকারিভাবে প্রকাশিত তথ্য বলছে, জালিয়াতি রোধে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে এখন কানাডা ভারতীয় আবেদনকারীদের অধিকাংশই প্রত্যাখ্যান করছে।
২০২৫ সালের আগস্টে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির জন্য দেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৪ শতাংশ স্টাডি পারমিট আবেদন বাতিল হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল প্রায় ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে, সব দেশ মিলিয়ে গড়ে ৪০ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে, আর চীনা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৪ শতাংশ।
একই সঙ্গে ভারতীয় আবেদনকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালের আগস্টে যেখানে ২০ হাজার ৯০০ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন, ২০২৫ সালের আগস্টে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪ হাজার ৫১৫-এ।
গত এক দশক ধরে কানাডার বিদেশি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় উৎস দেশ ছিল ভারত। কিন্তু এখন দেশটি ভারতীয় আবেদনকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে ভিসা প্রত্যাখ্যান করছে। এই প্রবণতা দেখা দিচ্ছে এমন সময়, যখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডায় এক ভারতীয় নাগরিক হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছিলেন, যা ভারত সরকার বারবার অস্বীকার করেছে।
২০২৩ সালে কানাডীয় কর্তৃপক্ষ প্রায় ১ হাজার ৫৫০টি জাল স্টাডি পারমিটের আবেদন শনাক্ত করেছিল, যার বেশিরভাগই এসেছিল ভারত থেকে। ২০২৪ সালে উন্নত যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালুর পর দেশটি ১৪ হাজারের বেশি সন্দেহজনক ভর্তি অনুমতিপত্র শনাক্ত করে।
এ কারণে কানাডা এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ কঠোরভাবে যাচাই করছে এবং আবেদন প্রক্রিয়া আরও কঠিন করেছে।
অটোয়ায় ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা জানি কানাডা স্টাডি পারমিট আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বাড়িয়েছে, তবে এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে আমরা মনে করি, বিশ্বের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের বড় অংশই ভারতের, এবং অতীতে কানাডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এসব শিক্ষার্থীর মেধা ও যোগ্যতা থেকে উপকৃত হয়েছে।’
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বলেছেন, দেশটি অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়, তবে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ অব্যাহত থাকবে।
কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভর্তিতে বড় পতন লক্ষ্য করছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু জানিয়েছে, গত তিন থেকে চার বছরে সেখানে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা ও ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচেওয়ানে।
আন্তর্জাতিক শিখ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জশপ্রীত সিং, যিনি ২০১৫ সালে ভারত থেকে কানাডায় পড়তে এসেছিলেন, বলেন, ‘আগে সরকার সবাইকে উৎসাহ দিত— “Study, work, stay”। এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি বুঝি জালিয়াতির ভয় আছে, কিন্তু এখন অনেক শিক্ষার্থীই মনে করছে কানাডায় যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ তো এমনও বলছে, আবেদন বাতিল হওয়ায় তারা খুশি— কারণ এখন কানাডায় পড়াশোনা শেষে থাকা বা চাকরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/