দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ গাজায় সেনা পাঠিয়ে হামাসের সঙ্গে লড়াই করার প্রস্তাব দিয়েছে। এসময় তিনি হামাসকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাম্প মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং আশপাশের অঞ্চলের অনেক দেশ উৎসাহের সঙ্গে জানিয়েছে, তাদেরকে আমার অনুরোধে গাজায় শক্তিশালী বাহিনী পাঠিয়ে হামাসকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ দিলে তারা তা গ্রহণ করবে। তিনি কোনো দেশকে নির্দিষ্ট করেননি, তবে ইন্দোনেশিয়াকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার সরকার এবং তার নেতা মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে যে সহায়তা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ।’
যদিও জাকার্তা ও অন্যান্য সরকার শান্তি রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য শান্তিরক্ষী সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে, কোনো দেশ সরাসরি হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষে নামার কথা বলেনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘হামাস সঠিক কাজ না করলে তাদের শেষ দ্রুত, ক্ষিপ্র এবং নিষ্ঠুর হবে।’
ইসরায়েল ইতোমধ্যে ১০ অক্টোবর থেকে শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ১০০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।
ট্রাম্প তার প্রশাসনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনতে শান্তি চুক্তিকে ইতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে চুক্তির শুরু থেকেই ইসরায়েল নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এলাকার কাছে যাওয়ার অভিযোগে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে এবং মানবিক সহায়তা সীমিত রেখেছে। গাজা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মাত্র ৯৮৬টি ত্রাণ ট্রাক প্রবেশ করেছে, যা প্রত্যাশিত ৬৬০০টির তুলনায় অনেক কম।
সোমবার ইসরায়েল হঠাৎ বিমান হামলা চালিয়ে বহু ফিলিস্তিনি নিহতের পর ত্রাণ প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। ইসরায়েল হামাসকে দায়ী করেছে, তবে হামাস তা অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, হামাসকে অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। তবে হামাস জানিয়েছে, তাদের অস্ত্র ত্যাগের শর্ত হলো একটি স্বতন্ত্র ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স, যিনি বর্তমানে ইসরায়েলে রয়েছেন, বলেছেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগের আগে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করে ‘নিরাপত্তা অবকাঠামো’ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেছেন, সহিংসতা হওয়া স্বাভাবিক এবং হামাসকে অবশ্যই অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে, তবে এ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।
ভ্যান্স জানান, নিহত ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ ফেরানো কঠিন, কারণ অনেককে ধ্বংসস্তূপের নিচে পাওয়া যাচ্ছে। গাজায় এখনও প্রায় ১৫ জন ইসরায়েলি মরদেহ রয়েছে, আর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ। ইতিমধ্যে ইসরায়েল ১৩৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মরদেহ ফিরিয়েছে, অনেকের দেহে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
মঙ্গলবার ভ্যান্স ঘোষণা করেছেন, গাজায় পুনর্গঠন ও ত্রাণ বিতরণ সহজ করতে ইসরায়েলে সিভিলিয়ান মিলিটারী কো-অপারেশন সেন্টার (CMCC) খোলা হয়েছে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে গাজায় সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মিডল ইস্ট সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, কেন্দ্রটিতে ২০০ জন মার্কিন সৈন্য দায়িত্বে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা গাজার ভেতরে স্থল এলাকায় থাকবে না।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/