দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা ও মিশরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত পারাপার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শনিবার তিনি বলেন, নিহত ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ হামাস হস্তান্তর না করা পর্যন্ত এই সীমান্ত খোলা হবে না।
নেতানিয়াহুর এ ঘোষণা আসে কয়েক ঘণ্টা পর, যখন কায়রোতে ফিলিস্তিনি দূতাবাস জানিয়েছিল যে রাফাহ সীমান্ত সোমবার থেকে পুনরায় খোলা হবে। এটি গাজাবাসীদের দেশত্যাগ বা দেশে প্রবেশের প্রধান পথ।
গত কয়েকদিন ধরে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে ইসরায়েল ও হামাস একে অপরকে দোষারোপ করছে। শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হামাসের পক্ষ থেকে ‘যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের আসন্ন পরিকল্পনা’ সম্পর্কে ‘বিশ্বস্ত তথ্য’ পেয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হবে।’ পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, যদি হামাস এমন হামলা চালায়, তাহলে গাজার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার হামাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। সংগঠনটি জানায়, তারা কোনো ‘আসন্ন হামলা’ বা ‘চুক্তি ভঙ্গের’ সঙ্গে জড়িত নয়। বরং ইসরায়েলই ‘অপরাধী গ্যাং’ গঠন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ করে হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের মতো অপরাধে জড়িত।
হামাস জানায়, গাজায় পুলিশ বাহিনী এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বিবৃতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ইসরায়েলের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা পুনরাবৃত্তি বন্ধের’ আহ্বান জানায়।
হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনা খালি করে যাওয়া এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে প্রকাশ্যে ফাঁসি ও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ এবং মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি দেওয়া তার অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল। তারা আরও বলে, রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না, ফলে উদ্ধার ও হস্তান্তর কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, শনিবার রাতে তারা আরও দুটি মরদেহ পেয়েছে। ফলে গত সপ্তাহে সম্পাদিত মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মধ্যে ১২ জনের মরদেহ হস্তান্তর হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। প্রায় সব বাসিন্দা গৃহহীন, দুর্ভিক্ষ চলছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মরদেহ ফেরত দেওয়া ও মানবিক সহায়তা পাঠানো নিয়ে বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে হামাস দুই বছর ধরে আটক ২০ জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে, বিনিময়ে ইসরায়েলে আটক প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছে।
তবে ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, হামাস নিহত ইসরায়েলিদের মরদেহ হস্তান্তরে ধীরগতি দেখাচ্ছে। হামাসের দাবি, গাজার ব্যাপক ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে সময় লাগছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি ইসরায়েলি মরদেহের বিনিময়ে ইসরায়েলকে ১৫টি ফিলিস্তিনি যোদ্ধার মরদেহ ফেরত দিতে হবে। এ পর্যন্ত ইসরায়েল ৩৬০টি মরদেহের মধ্যে ১৫টি হস্তান্তর করেছে।
রাফাহ সীমান্ত ২০২৪ সালের মে মাস থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজায় খাদ্য ও ওষুধসহ মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগস্টে এক আন্তর্জাতিক সংস্থা জানায়, গাজার কয়েক লক্ষ মানুষ দুর্ভিক্ষে ভুগছে।
ইসরায়েল মার্চে ১১ সপ্তাহের জন্য সহায়তা বন্ধ রাখার পর জুলাই থেকে সীমিত পরিসরে তা আবার চালু করে এবং যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা বাড়ায়। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৫৬০ মেট্রিক টন খাদ্য গাজায় প্রবেশ করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ শেষ করার ২০ দফা পরিকল্পনার সামনে এখনো বহু বাধা রয়ে গেছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার শাসনব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠন এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো এখনও অমীমাংসিত। সূত্র: রয়টার্স
এমএস/