দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে সোমবার মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিরা পশ্চিম তীর ও গাজায় পৌঁছালে আনন্দে ভরে ওঠে জনতা। বাসভর্তি বন্দিদের স্বাগত জানাতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, কেউ পতাকা নাড়ায়, কেউ প্রিয়জনের ছবি হাতে উল্লাস করে।
হামাস গত বছর ৭ অক্টোবরের হামলায় আটক জীবিত শেষ ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পর এই বন্দি বিনিময় শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আটক ১ হাজার ৭০০ জন, ২২ জন কিশোর ও ৩৬০ যোদ্ধার মৃতদেহ হস্তান্তর করছে।
গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে ভিড় জমে কয়েক হাজার মানুষের। অনেকে মুক্ত বন্দিদের স্বাগত জানাতে গান গেয়ে ও পতাকা ওড়াতে থাকেন। সেখানে উপস্থিত হামাসের সশস্ত্র শাখার সদস্যরাও কালো পোশাক পরে বন্দিদের বরণ করেন। হামাস জানায়, মুক্ত বন্দিদের মধ্যে ১৫৪ জনকে মিশরে পাঠানো হয়েছে।
চোখ ভেজা আনন্দে উম আহমেদ নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের মুক্তি পেয়ে খুশি, কিন্তু গাজার ধ্বংস আর নিহতদের স্মৃতি এখনো আমাদের কষ্ট দেয়।’
পশ্চিম তীরের রামাল্লায় মুক্তি পাওয়া বন্দিদের মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক সামের হালাবেয়া, যিনি এক ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে আহত করার পরিকল্পনার অভিযোগে দণ্ড ভোগ করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি একদিন সবাই মুক্তি পাবে।’
আরেক মুক্ত বন্দি মোহাম্মদ আল-খাতিব, যিনি ২০ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন, বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, এতদিন পর আবার পরিবারের সঙ্গে দেখা হবে।’
তবে এই তালিকায় কোনো সিনিয়র হামাস কমান্ডার বা বড় কোনো দলের শীর্ষ নেতা নেই। এতে অনেক পরিবারের সদস্যরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। হামাস যোদ্ধা আবদুল্লাহ আল-বারঘুতির মেয়ে তালা আল-বারঘুতি লিখেছেন, ‘এই চুক্তি আমাদের প্রতিরোধের সবচেয়ে সাহসীদের ত্যাগ করিয়েছে এবং তাদের মুক্তির আশাও বন্ধ করেছে।’ সূত্র: রয়টার্স
এমএস/