দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে ঘিরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চরমে উঠেছে। দেশটির রাজনীতিতে এখন মূল প্রশ্ন—ম্যাক্রোঁ কি পদত্যাগ করবেন, নাকি আগাম সংসদ নির্বাচন দেবেন? গত দুই বছরেরও কম সময়ে ফ্রান্সে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।
এ পরিস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ১৯৫৮ সালে পঞ্চম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু নতুন সরকার গঠনের শেষ প্রচেষ্টা চালানোর সময় ম্যাক্রোঁর প্রথম প্রধানমন্ত্রী (২০১৭ সালে) এদুয়ার ফিলিপ বলেন, সংকট নিরসনে এখন ‘নতুন প্রেসিডেন্টের সময় এসেছে।’
তিনি রেডিও আরটিএল-কে বলেন, “ম্যাক্রোঁর উচিত শৃঙ্খলাভাবে ক্ষমতা ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া, যাতে দেশটি এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।’
ফ্রান্সের এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখন ইউরোপজুড়ে আলোচনার বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার ও ইউক্রেনকে সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আর এমন সময়েই ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্সে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
অর্থবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সোমবার ফ্রান্সের শেয়ারবাজারে ১.৪ শতাংশ পতন ঘটে এবং সরকারি বন্ডের ঝুঁকি প্রিমিয়াম নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
প্যারিসের এক প্রবীণ বাসিন্দা ব্রিজিত গ্রিয়েস বলেন, ‘সবকিছুই এখন এক বিশৃঙ্খলা। খুবই কষ্ট লাগে।’ আর মন্টপেলিয়েরের ট্যাক্সিচালক সুফিয়ান মনসুর বলেন, ‘ফ্রান্স এখন সারা বিশ্বের কাছে হাস্যকর এক দেশের মতো হয়ে গেছে।’
ম্যাক্রোঁর সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী এখন প্রকাশ্যে তাঁর সমালোচনা করছেন। গ্যাব্রিয়েল আতাল, যিনি গত বছর কয়েক মাস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অনেক ফরাসির মতো আমিও এখন আর প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তগুলো বুঝতে পারি না।’
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী এলিজাবেথ বর্ন বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি বিতর্কিত পেনশন সংস্কার আইন স্থগিত রাখতে রাজি, যা নিয়ে গত বছর ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।
লেকর্নুর সরকারকে আরও দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে সমঝোতা গঠনের জন্য।
সরকার গঠনে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন মধ্যপন্থী ও রক্ষণশীল দলের নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, আগামী বছরের বাজেট অনুমোদনের জন্য দ্রুত ঐক্যমত্য প্রয়োজন। তবে চরম ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) জানিয়েছে, তারা এসব আলোচনায় অংশ নেবে না।
দলের নেতা মারিন লে পেন ও জর্ডান বারদেলা আবারও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের দাবি তুলেছেন।
তবে জরিপ বলছে, আগাম নির্বাচন হলেও কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না, ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/