দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

৭ অক্টোবর হামলার দুই বছর পূর্তিতে ইসরায়েলজুড়ে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সময়ে মিশরের শারম আল-শেখে গাজা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনাও চলছে।
২০২৩ সালের ওই দিনে হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলায় ১,২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদিদের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়, যাতে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব তথ্যকে সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্মরণ বার্তায় বলেন, ‘অপরিসীম যন্ত্রণার মধ্যেও ইসরায়েল অলৌকিক স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। রক্তপিপাসু শত্রুরা আমাদের আঘাত করেছে, কিন্তু ভাঙতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধে আমাদের লক্ষ্য—সব জিম্মিকে মুক্ত করা, হামাস শাসনের অবসান ঘটানো এবং নিশ্চিত করা যে গাজা আর কখনো ইসরায়েলের জন্য হুমকি হবে না।’
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ওই হামলাকে স্মরণ করে বলেন, ‘ওই অন্ধকার দিনের ভয়াবহতা চিরদিন আমাদের স্মৃতিতে থাকবে।’ তিনি সবাইকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার আহ্বান জানান, যা তিনি ‘এই দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
সরকারি স্মরণ অনুষ্ঠান ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকলেও মঙ্গলবার সারাদেশে নানা আয়োজনে নিহতদের স্মরণ করা হয়। তেল আবিবে নিহতদের পরিবারের আয়োজিত এক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয় সব টেলিভিশন চ্যানেলে।
একই দিনে মিশরের শারম আল-শেখে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধিরা পরোক্ষ আলোচনায় বসেন। এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় অগ্রগতি খুবই ধীর; প্রধান মতভেদ ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মানচিত্র ও যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা নিয়ে।
আলোচনায় মূলত পাঁচটি বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে—স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, জিম্মি-বন্দি বিনিময়, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও যুদ্ধ-পরবর্তী শাসন ব্যবস্থা।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা স্থায়ী চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি।’ তার বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ বুধবার মিশরে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।
তেল আবিবে এক সমাবেশে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক যুবতী বলেন, ‘যতক্ষণ না সব জিম্মি ঘরে ফিরে আসে, আমাদের কারও মন শান্তি পাবে না।’
এদিকে জেরুজালেমে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জিম্মিদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ হয়। ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৪৮ জন জিম্মি গাজায় বন্দি আছেন, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত।
গাজার বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবারও ইসরায়েলি বিমান ও গোলাবর্ষণে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। আল-শিফা হাসপাতাল জানায়, দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। দক্ষিণের খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে আরও দুইজন নিহত হন।
ইউনিসেফ জানায়, গাজার হাসপাতালগুলোতে শিশু ও মায়েরা এখন মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এক কক্ষে তিন মা ও তিন নবজাতক একটিমাত্র অক্সিজেন সিলিন্ডার ভাগ করে নিচ্ছেন, বলছেন সংস্থার মুখপাত্র জেমস এল্ডার।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৩৮টি হাসপাতালের মধ্যে ২৫টি সম্পূর্ণ বন্ধ, আর বাকি ১৩টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে।
সকালে গাজার উত্তর দিক থেকে একটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়, তবে তা কোনো ক্ষতি বা হতাহতের কারণ হয়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় স্বাধীন সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/