দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের দক্ষিণ ইসরায়েলীয় এলাকায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এতে গাজায় ব্যাপক ধ্বংস এবং লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, যুদ্ধের প্রধান বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
নিহতদের সংখ্যা:
* গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ৬৭,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ১৮ বছরের কম বয়সী। * গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাগরিক ও যোদ্ধাকে আলাদা করে গণনা করে না। ইসরায়েল দাবি করে, নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ২০,০০০ যোদ্ধা। * ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১,৬৬৫ জনের মধ্যে ১,২০০ জন ৭ অক্টোবরের হামলায় প্রাণ হারান। এর মধ্যে ৪৬৬ জন ইসরায়েলি সেনা এবং ২,৯৫১ জন আহত।
অধিকার ও বন্দি:
* হামাস ৭ অক্টোবরের হামলায় ২৫১ জনকে গাজায় বন্দি করে নিয়ে যায়। বর্তমানে ৪৮ জন বন্দি আছে, যার মধ্যে ২০ জন বেঁচে আছে বলে মনে করা হয়। * আলোচনার মাধ্যমে বাকি বন্দিদের ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে বিনিময় করার পরিকল্পনা চলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবন:
* জাতিসংঘের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ১,৯৩,০০০ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। * ২১৩টি হাসপাতাল এবং ১,০২৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত। * দক্ষিণ গাজার হাসপাতালগুলো অত্যন্ত চাপের মুখে।
স্থানান্তর ও উদ্বাস্তু:
* গাজার মাত্র ১৮% এলাকা এখনো নিরাপদ। অনেক মানুষ বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। * আগস্টের মধ্য থেকে ৪১৭,০০০-এর বেশি মানুষ উত্তর থেকে দক্ষিণে সরানো হয়েছে।
খাদ্য ও অভাব:
* গাজায় খরা এবং অপ্রতুল খাদ্য সরবরাহের কারণে দারিদ্র্য ও অভাব সৃষ্টি হয়েছে। * স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৭৭ জন খাবার ও পুষ্টির অভাবে মারা গেছে। * প্রেগন্যান্ট ও নবজাতক মাতাদের ৬০% এর বেশি পুষ্টিহীন।
সাহায্য কার্যক্রম:
* ২১ মে থেকে ইসরায়েল ১১ সপ্তাহের নাকাবন্ধী পর সরবরাহ খুলে দিয়েছে। * তবে সাহায্য কার্যক্রম এখনও সীমিত, এবং বেশির ভাগ সময়ে ফিলিস্তিনি জনগণ ত্রাণ না পেয়ে ক্ষুধার্ত থাকে। * ২,৩৪০ জন কমপক্ষে ত্রাণ নেওয়ার সময় নিহত হয়েছে, যার অর্ধেক সামরিক সরবরাহের পাশে।
এই পরিস্থিতি গাজাকে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলেছে, যেখানে প্রচুর মানুষ ক্ষুধার্ত, অসহায় এবং নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/