দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েল জলপথে গাজায় ত্রাণ পাঠাতে যাওয়া আন্তর্জাতিক নৌবহর আটক করে তাতে থাকা পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গসহ ১৭১ জনকে সোমবার গ্রিস ও স্লোভাকিয়ায় পাঠিয়ে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে আটক করা ওই নৌবহরের মোট ৪৭৯ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সব অংশগ্রহণকারীর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থুনবার্গের বিমানবন্দরে তোলা ছবিও প্রকাশ করে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আটক অবস্থায় এক নারী মেডিককে কামড়ানো ছাড়া অন্য কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
ইসরায়েল জানিয়েছে, সুইডিশ কর্মী থানবার্গ দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে গেছেন। দেশটি নৌবহরের এই প্রচেষ্টাকে 'জনসংযোগের নাটক' হিসেবে অভিহিত করেছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছে গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের ১৮টি দেশের নাগরিক।
সুইজারল্যান্ডে ফিরে আসা কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, আটক অবস্থায় তাদের ঘুম থেকে বঞ্চিত করা হয়, খাবার ও পানি দেওয়া হয়নি, কেউ কেউ মারধরেরও শিকার হয়েছেন। একই অভিযোগ তুলেছেন স্প্যানিশ কর্মীরাও।
স্পেনের আইনজীবী রাফায়েল বোরেগো সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মাটিতে ফেলে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, চোখ বেঁধে হাত-পা বেঁধে খাঁচায় বন্দি করা হয় ও অপমান করা হয়।’
সুইডিশ কর্মীরা জানিয়েছেন, থুনবার্গকে জোর করে ইসরায়েলি পতাকা গায়ে জড়ানো হয়। তাদের খাবার, পানি, ওষুধ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও কেড়ে নেওয়া হয়।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, সব বন্দিকে যথেষ্ট খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তেলআবিবে সুইস দূতাবাস জানিয়েছে, আটক ১০ সুইস নাগরিককে তারা পরিদর্শন করেছে, এবং “পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা তুলনামূলকভাবে সুস্থ আছেন।’
ফ্লোটিলায় থাকা বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কোলাউ বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা অমানবিক, কিন্তু তা ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনকার দুর্ভোগের তুলনায় কিছুই না।’
স্পেনের সাংবাদিক কার্লোস দে বারন ও নেস্টর প্রিয়েতো অভিযোগ করেছেন, তাদের জোর করে হিব্রু ভাষায় লেখা নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছে—যেখানে বলা হয় তারা অবৈধভাবে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছেন।
তাদের অভিযোগ, ‘আমাদের অনুবাদক দেওয়া হয়নি, এমনকি স্পেনের কনসালকেও বন্দরের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’
বন্দিদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/