দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ৯টায় (স্থানীয় সময়) দেশের বেশিরভাগ প্রদেশে ভোটকেন্দ্র খোলা হয়। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল রোববার রাতেই পাওয়া যেতে পারে, আর চূড়ান্ত ফল সোমবার ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নওয়ার নাজমেহ জানান, প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার জারি করা সাম্প্রতিক এক অধ্যাদেশের ভিত্তিতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনী কাঠামোর অধীনে এ নির্বাচন হচ্ছে। এতে একটি ১০ সদস্যের জাতীয় নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নির্বাচনী নিয়ম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোট ২১০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ নির্বাচিত হবেন স্থানীয় সংস্থার মাধ্যমে আর এক-তৃতীয়াংশ মনোনীত করবেন প্রেসিডেন্ট। আসন বণ্টন হবে জনসংখ্যা ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে।
তবে রাক্কা ও হাসাকাহ প্রদেশের বেশিরভাগ এলাকায় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। সুয়েইদা প্রদেশের আসনগুলোও আপাতত শূন্য রাখা হবে। এসব এলাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। রাক্কা ও হাসাকাহ কুর্দি নেতৃত্বাধীন ওয়াইপিজি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, আর সুয়েইদা ড্রুজ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা হিকমাত আল-হিজরির অনুগত গোষ্ঠীর দখলে।
১০ দিনব্যাপী প্রচারণা শেষে শুক্রবার নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ হয়। এ নির্বাচনে ১ হাজার ৫৭৮ জন প্রার্থী অংশ নেন, যাদের মধ্যে ১৪% নারী। নির্বাচনী তালিকা থেকে সাবেক আসাদ শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণ দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও প্রয়োজনে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। ভোট গণনা হবে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে, ভোট শেষে তিন ঘণ্টা পর থেকে। নারীদের জন্য ২০% আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ দুই বছর ছয় মাস মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে। এই সময়ের মধ্যে প্রথম সরাসরি জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল ও ড্রুজ অধ্যুষিত এলাকায় ভোট না হওয়া, এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো কোটা না রাখার কারণে নতুন সংসদ কতটা প্রতিনিধিত্বশীল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে আলাওয়ি ও ড্রুজ সম্প্রদায়ের শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যাদের অনেককেই সরকারপন্থী যোদ্ধাদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/