দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ও তার বাজেট পরিচালক ঠিক করবেন কোন ‘ডেমোক্র্যাট সংস্থা’ কেটে দেওয়া হবে, কারণ মার্কিন সরকারের অচলাবস্থা (শাটডাউন) টানা তৃতীয় দিনে গড়াচ্ছে।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রিপাবলিকানরা এ সুযোগে ‘অপ্রয়োজনীয় জটিলতা’ সরিয়ে দিতে পারে। তবে তিনি ডেমোক্র্যাটদের দাবির ব্যাপারে কোনো ছাড় দেননি—যেখানে বলা হয়েছিল সরকারি বাজেটে অবশ্যই স্বাস্থ্যবীমা ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এদিকে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা পরস্পরকে দোষারোপ করছে সরকার অচল হয়ে যাওয়ার জন্য।
শত-সহস্র সরকারি কর্মী কাজ ছেড়ে বাড়িতে বসে আছেন, আবার অনেকে বিনা বেতনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু সরকারি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে, তবে কিছু এখনো খোলা রয়েছে—যেমন নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ আমেরিকানদের ওপর সরাসরি প্রভাব না পড়া পর্যন্ত কোনো দলই ছাড় দিতে রাজি হবে না।
ঠিক কী সিদ্ধান্ত আসবে তা পরিষ্কার নয়। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বৈঠকে বসেন বাজেট দপ্তরের (ওএমবি) পরিচালক রাসেল ভাউটের সঙ্গে। কংগ্রেস ব্যর্থ হলে ওএমবি পরিচালক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মিলে ঠিক করেন কোন সরকারি কার্যক্রম চলবে আর কোনটি বন্ধ থাকবে। এরপর বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয় কারা বেতন ছাড়া ছুটিতে (ফারলো) যাবে আর কারা অপরিহার্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে।
অচলাবস্থার প্রথম দিন ভাউট জানিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউস বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বন্ধ বা স্থগিত করেছে, যার বড় অংশ ছিল ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যে। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের ১৮ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্পও আছে। নিউ ইয়র্ক হলো সিনেটর চাক শুমার ও প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসের রাজ্য।
সরকার সচল করতে রিপাবলিকানদের অন্তত আটজন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের সমর্থন লাগবে। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটদের ১৩ জন রিপাবলিকানকে সঙ্গে আনতে হবে। বুধবারের ভোটে মাত্র তিনজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে ছিলেন। শুক্রবার আবার সিনেটে নতুন ভোট হতে পারে।
রিপাবলিকানরা শুধু তহবিল অনুমোদনের প্রস্তাব চাচ্ছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা চাইছে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যবীমা ভর্তুকি নবায়ন করতে, যা বছরের শেষে শেষ হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার উভয় দলের পৃথক সংবাদ সম্মেলনে কেউই ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ডেমোক্র্যাটদের ‘স্বার্থপর’ আখ্যা দিয়ে এটিকে ‘ডেমোক্র্যাট শাটডাউন’ বলেন। তিনি স্বাস্থ্যবীমা ভর্তুকি বা অন্য কোনো শর্ত যুক্ত করতে রাজি নন বলে জানান।
ডেমোক্র্যাট নেতা জেফ্রিস অভিযোগ করেন, রিপাবলিকানরা সাধারণ কর্মজীবী আমেরিকানদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে চায় না। তিনি বলেন, ‘তারা তো সবসময় সরকারি কর্মচারী ছাঁটাই করেই আসছে, তাই ট্রাম্পের হুমকি অর্থহীন।’
ম্যারিস্ট ইউনিভার্সিটির জনমত জরিপ পরিচালকের মতে, জনগণ মূলত দলীয় বিভাজনের ভিত্তিতেই দায় চাপাচ্ছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা রিপাবলিকানদের দায়ী করছে, রিপাবলিকান সমর্থকেরা দোষারোপ করছে ডেমোক্র্যাটদের। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৪১ শতাংশ মনে করছে উভয় দলই সমানভাবে দায়ী।
তিনি বলেন, ‘উভয় দলই দোষারোপে দক্ষ হয়ে উঠেছে। এর ফলে অনেকেই এখন মনে করছে দেশ ভুল পথে যাচ্ছে।’
তিনি মনে করেন, অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়লেই সাধারণ মানুষ কংগ্রেসের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে সরকার চালু করার জন্য।
কংগ্রেস বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার সরকারি কর্মীকে বেতন ছাড়া ছুটিতে যেতে হতে পারে। তবে অপরিহার্য কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাদের মধ্যে আছেন দুই লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। বিমান নিয়ন্ত্রক ও পরিবহন নিরাপত্তা সংস্থার (টিএসএ) কর্মীরাও অপরিহার্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে পূর্বের অচলাবস্থায় এসব কর্মীরা অসুস্থতার ছুটি নেওয়া শুরু করেছিলেন, ফলে বড় বড় বিমানবন্দরে দেরি হয়।
ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কের অনেক জাদুঘর বন্ধ হয়ে গেছে, যেমন ম্যানহাটনের ফেডারেল হল। এখানে ১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
তবে সব স্মৃতিস্তম্ভ বন্ধ হয়নি। নিউ ইয়র্কে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও এলিস আইল্যান্ড খোলা রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, এটি সম্ভব হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের কারণে।
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন জানিয়েছে, তাদের তহবিলে অন্তত এক সপ্তাহ খোলা রাখার মতো অর্থ আছে। প্রতিষ্ঠানটির জাদুঘরগুলোতে গত বছর প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ দর্শনার্থী এসেছিল।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/