দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ওয়াশিংটনে দলীয় বিভাজনের কারণে বাজেট চুক্তি না হওয়ায় বুধবার (১ অক্টোবর) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এটি ১৯৮১ সালের পর ১৫তম শাটডাউন। এতে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ফেডারেল কর্মচারীকে বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানো হবে, যার দৈনিক ক্ষতি দাঁড়াবে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার।
শাটডাউনের কারণে সেপ্টেম্বরে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ স্থগিত থাকবে, বিমান চলাচল ধীর হবে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বন্ধ থাকবে, সেনাদের বেতন আটকে যাবে বলে আশঙ্কা করছে বিভিন্ন সংস্থা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, শাটডাউন হলে সরকারি চাকরি ও নানা কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে। তার প্রশাসন এ বছরেই প্রায় তিন লাখ কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে রয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে সিনেট অস্থায়ী ব্যয় বিল প্রত্যাখ্যান করার পর শাটডাউন শুরু হয়। ওই বিলটি নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারত। ডেমোক্র্যাটরা বিলের বিরোধিতা করেন, কারণ রিপাবলিকানরা স্বাস্থ্য সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব যুক্ত করতে রাজি হয়নি। রিপাবলিকানদের দাবি, এ বিষয়টি আলাদাভাবে আলোচনা করা উচিত।
এবারের বাজেট নিয়ে টানাপোড়েন ঘুরছে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দ নিয়ে, যা মোট বাজেটের এক-চতুর্থাংশ। বাকিটা স্বাস্থ্য, অবসর সুবিধা ও ৩৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার শাটডাউন আগের তুলনায় দীর্ঘ হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন হুমকি দিচ্ছে, ডেমোক্র্যাটদের ওপর চাপ তৈরি করতে সরকারি কর্মসূচি ও চাকরিতে কড়াকড়ি চালানো হবে।
ওয়াল স্ট্রিটের ফিউচার সূচক কমেছে, স্বর্ণের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে, এশিয়ার শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ‘হোয়াইট হাউস আমাদের ভয় দেখাতে চাইছে। কিন্তু তারা সফল হবে না।’ অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেট নেতা জন থুন বলেন, ‘এই শাটডাউনের আসল কারণ রাজনৈতিক। অতীতে এমন বিল নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। পার্থক্য শুধু এখন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প আছেন।’
ডেমোক্র্যাটরা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্য সুবিধা রক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইন পাস হলেও সুবিধাগুলো কার্যকর করবে না।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট প্যাপে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন এখন চরমে। দুই পক্ষের নেতাদের জন্য সমর্থকদের রোষ এড়িয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো খুব কঠিন হবে।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/