দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনঃআরোপের বিষয়ে ভোট দেবে। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি অভিযোগ করেছে যে ইরান ২০১৫ সালের যৌথ পারমাণবিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রস্তাব পাস করতে প্রয়োজন ১৫ সদস্যের মধ্যে নয়টি ভোট। এটি না হলে বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব হবে না এবং নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সাম্প্রতিক বার্তা ইতিবাচক নয়।
ইউরোপীয় তিন দেশ আগস্টে জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, ইরান অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে এবং অন্যান্য শর্তও লঙ্ঘন করেছে।
রাশিয়া ও চীন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে এবং ৯ ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে কূটনীতিকরা মনে করছেন এটি প্রায় অসম্ভব। বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান বলেন, ‘আলজেরিয়া ও পাকিস্তান হয়তো রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে থাকতে পারে, কিন্তু অন্য সদস্যরা বিরোধিতা করবে বা বিরত থাকবে। ফলে ইউরোপীয় দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে ভেটো ব্যবহার করতে হবে না।”
ভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী সপ্তাহে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। তবে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যদি জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে আসেন, শেষ মুহূর্তে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এরপর থেকে ইরান ধাপে ধাপে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করেছে। পশ্চিমা শক্তি ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ করছে, যা ইরান অস্বীকার করছে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি স্ন্যাপব্যাক ধারা কার্যকর করা হয়, তবে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে আসতে পারে।
এমএস/