দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মাটির নিচে জীবিত অবস্থায় পাওয়া এক কন্যাশিশু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লড়াই করছে। শিশুটির বয়স মাত্র ২০ দিন।
শাহজাহানপুর জেলায় এক রাখাল ছাগল চরাতে গিয়ে মাটির ঢিবির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ পান। কাছে গিয়ে তিনি একটি ছোট হাত দেখতে পান। খবর পেয়ে গ্রামবাসী ও পুলিশ এসে শিশুটিকে মাটিচাপা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
সরকারি মেডিকেল কলেজের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. রাজেশ কুমার জানান, শিশুটি মাটিতে ঢাকা থাকায় মুখ ও নাকে কাদা ঢুকে গিয়েছিল। তার শরীরে অক্সিজেন ঘাটতির লক্ষণ ছিল, পোকামাকড় ও প্রাণীর কামড়ের চিহ্নও পাওয়া গেছে। প্রথমে সামান্য উন্নতি হলেও পরে তার অবস্থা আবার খারাপ হয়েছে এবং সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুটি সম্ভবত মাটিচাপা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই উদ্ধার হয়েছিল, কারণ ক্ষতগুলো ছিল নতুন। চিকিৎসকরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে পরিস্থিতি এখনো সংকটজনক।
পুলিশ এখনো শিশুটির বাবা-মাকে শনাক্ত করতে পারেনি। বিষয়টি শিশু সহায়তা হেল্পলাইনে জানানো হয়েছে।
ভারতে কন্যাশিশু হত্যা ও ফেলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৯ সালে একই রাজ্যে মাটির কলসিতে জীবিত অবস্থায় আরেক নবজাতককে পাওয়া গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের বহু পরিবারে এখনো ছেলেসন্তানের প্রতি প্রবল ঝোঁক রয়েছে। কন্যাশিশুকে আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখা হয়, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এজন্য দেশে গর্ভপাত থেকে শুরু করে জন্মের পর হত্যা পর্যন্ত নানা ধরণের ঘটনা ঘটে আসছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/