দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুই বছরের যুদ্ধে গাজা সিটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। টানা বোমা ও গোলাবর্ষণের মুখে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব এই অভিযানকে বলেছেন “ভয়াবহ’।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ‘গাজা জ্বলছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় আসবাবপত্রভর্তি ভ্যান, গাধার গাড়ি আর হাতে অল্প কিছু জিনিসপত্র নিয়ে পায়ে হেঁটে মানুষ দক্ষিণ দিকে ছুটছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত শহরের ওপরে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার একদিনেই শহরে অন্তত ৯১ জন নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, পালানোর চেষ্টা করা একটি গাড়ি উপকূলীয় রাস্তায় ইসরায়েলি বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়। একই দিনে অন্তত ১৭টি আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে তুফাহ এলাকার ঐতিহাসিক আয়বাকি মসজিদও ধ্বংস হয়েছে।
অভিযানে ইসরায়েলি সেনারা বিস্ফোরক বহনকারী রোবট ব্যবহার করেছে। ইউরোমেড মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অন্তত ১৫টি রোবট মোতায়েন করা হয়েছে, যেগুলো একেকবারে প্রায় ২০টি বাড়ি ধ্বংস করতে সক্ষম।
ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটির ভেতরে ব্যাপক ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করেছে। সেনাদের দাবি, পুরো শহর দখলে নিতে আরও ‘কয়েক মাস’ লাগবে।
আগে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ফিরে এসেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক হামলায় অনেকে আবার পালাতে শুরু করেছেন। ইসরায়েলের দাবি, প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ গাজা ছেড়েছে। তবে গাজার সরকারি দপ্তর বলছে, এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার শহর পুরোপুরি ছেড়েছে, বাকিরা আশ্রয় নিয়েছে শহরের ভেতরের অন্য অংশে।
পালানো মানুষদের অনেকেই দক্ষিণে আল-মাওয়াসি শিবিরে যাচ্ছেন, যেখানে ইতিমধ্যেই লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন। কিন্তু সেখানেও ইসরায়েলের হামলা হয়েছে। খারাপ পরিস্থিতি দেখে মঙ্গলবার আবার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ গাজা সিটিতে ফিরে আসেন।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন মঙ্গলবার জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ একটি গণহত্যা। প্রায় দুই বছরে এ যুদ্ধে অন্তত ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য প্রমাণ করে যে তারা ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যে কাজ করছে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার পরিস্থিতি এখন এমন এক মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে যা আর বিলম্ব সহ্য করতে পারবে না।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই যুদ্ধ ‘নৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’
ফ্রান্স ইসরায়েলকে ‘ধ্বংসাত্মক অভিযান’ বন্ধ করতে এবং দ্রুত আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানিয়েছে। আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিগিন্স গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যারা এ অপরাধ করছে এবং যারা অস্ত্র দিয়ে তাদের সহযোগিতা করছে, উভয়কেই দায়ী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ থেকে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে এবং এ ধরনের রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।’
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/