দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দোহায় অনুষ্ঠিত আরব লীগ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর জরুরি সম্মেলনে কাতারের প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে এবং ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। সোমবারের এই বৈঠকে প্রায় ৬০টি মুসলিম ও আরব দেশের নেতারা অংশ নেন। তারা বলেন, ইসরায়েলের এই অভূতপূর্ব হামলা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
হামলাটি কাতারের রাজধানী দোহায় হোমস নেতাদের একটি বৈঠকে চালানো হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হন।
কাতার
আমির শেখ তামিম বলেন, দোহায় হামলা প্রমাণ করেছে ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় না, বরং আলোচনাকে ভেস্তে দিতে চায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি জিম্মিদের মুক্ত করতে চায়, তাহলে আলোচকদের হত্যা করছে কেন?’
তুরস্ক
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলকে ‘রক্তপিপাসু মানসিকতার রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের অপরাধ আন্তর্জাতিক আইনের বড় লঙ্ঘন। তিনি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান।
মিসর
প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি বলেন, কাতারে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি শান্তিচুক্তি বিপর্যস্ত করছে।
ইরান
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলোকে এক হয়ে ইসরায়েলের অপরাধ ঠেকাতে হবে এবং প্রয়োজনে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
ইরাক
প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি বলেন, শুধু নিন্দা নয়, এখন সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। তিনি জাতিসংঘ ও অন্যান্য ফোরামে বার্তা দেওয়ার জন্য যৌথ আরব-ইসলামিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
জর্ডান
রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন, দোহায় হামলা প্রমাণ করে ইসরায়েল সীমাহীন হুমকি। তিনি দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিন
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান উগ্র সরকার শান্তির অংশীদার হতে পারে না।
মালয়েশিয়া
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শুধু নিন্দা নয়, এবার কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করারও আহ্বান জানান তিনি।
ইন্দোনেশিয়া
উপ-রাষ্ট্রপতি গিবরান রাকাবুমিং বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্ন কেবল একটি দেশের নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের মর্যাদা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন।
পাকিস্তান
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)
সেক্রেটারি জেনারেল জাসেম আলবুদাইউই যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ওআইসি
মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহা বলেন, কাতারের ওপর হামলা স্পষ্ট আগ্রাসন এবং ইসরায়েলকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আরব লিগ
মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত বলেন, ইসরায়েলের দৌরাত্ম্য রুখতে নীরবতা ভাঙতে হবে। তিনি নীরবতাকে ‘অপরাধে সহযোগিতা’ বলে আখ্যা দেন।
সম্মেলনে নেতারা একমত হন যে, ইসরায়েলের আগ্রাসন রুখতে আরব ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এখন সবচেয়ে জরুরি।
এমএস/