দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে এবং চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়। তার মতে, এতে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পথ তৈরি হতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানায়, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প এই আহ্বান জানান। বৈঠকটি হয় 'কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং' নামে গঠিত মিত্র দেশগুলোর ফোরামে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৈঠকের পর জানান, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে ২৬টি দেশ সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাক্রোঁ বলেন, 'আমেরিকান সেফটি নেট' ছাড়া ইউরোপের উদ্যোগ কার্যকর হবে না।'
ট্রাম্প বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপকে অবিলম্বে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু গত বছরেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে মস্কোকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো দিয়েছে, যা যুদ্ধের অর্থায়ন করছে। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় নেতাদের চীনের ওপরও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান।
এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ায় ট্রাম্প হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি এখন সরাসরি রুশ ও ইউক্রেনীয় নেতাদের আলোচনায় বসানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ শুক্রবার বলেন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের আগে “অসংখ্য কাজ বাকি” রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তারা ইউক্রেনকে সীমিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে রাজি। এর মধ্যে মার্কিন যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশসীমায় টহল দেওয়ার বিষয় থাকতে পারে, তবে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নেই।
জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার বলেন, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি নতুন ফরম্যাট নিয়েও কথা হয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প পুতিনকে আগেই সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ না থামালে তাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা করছেন, অতিরিক্ত চাপ দিলে আলোচনাই ভেস্তে যেতে পারে।
মধ্যবর্তী সময়ে ট্রাম্প লক্ষ্য করছেন রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য করা দেশগুলোকে। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়ান তেল কেনায় ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। “আমি ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি,” দাবি করেন ট্রাম্প।
জেলেনস্কিও একই সুরে বলেন, 'আমরা রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপ অব্যাহত রাখব। যারা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করছে, তারাও চাপের মুখে পড়বে। সেকেন্ডারি স্যাংশন ও বিশেষ শুল্কই হতে পারে কার্যকর উপায়।'
তিনি আরও জানান, পুতিন তাকে মস্কোতে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।