দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি অপরাধী চক্রগুলোকে 'বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস' করবে। তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতাও নেওয়া হতে পারে।
ইকুয়েডর সফরে রুবিও বলেন, 'এখন তারা আমাদের এসব অপরাধী খুঁজে পেতে সাহায্য করবে এবং প্রয়োজনে ধ্বংস করবে।'
তিনি আরও ঘোষণা দেন, ইকুয়েডরের দুই কুখ্যাত অপরাধী গ্যাং— লস লোবস ও লস চোনেরোস—কে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করবে।
এর আগে ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্র একটি নৌকায় হামলা চালায়। এতে ১১ জন মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভেনেজুয়েলার দুটি সামরিক বিমান যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাহাজের কাছাকাছি উড়ে যায়, যা তারা “অত্যন্ত উসকানিমূলক পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভেনেজুয়েলা এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মেক্সিকো ও ইকুয়েডরের মতো মিত্র দেশ থেকে আসা মাদক পাচারকারীদের কি যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে হত্যা করতে পারে? উত্তরে তিনি বলেন, সহযোগী সরকারগুলো পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কারণ তারা গত ৩০ বছর ধরে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, আর কেউ এর জবাব দেয়নি।'
যদিও ইকুয়েডর ও মেক্সিকো সরকার এখনো জানায়নি তারা যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সামরিক অভিযানে সহায়তা করবে কি না।
গত মঙ্গলবার ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ট্রেন দে আরাগুয়া–র সদস্যরা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তারা নাকি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করছিল। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করতে পারে।
রুবিও আরও ঘোষণা দেন, ইকুয়েডরকে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা সহায়তা এবং ৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ড্রোন প্রযুক্তি দেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইকুয়েডরে সহিংসতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। কোকেন পাচারের নিয়ন্ত্রণ নিতে অপরাধী চক্রগুলো একে অপরের সঙ্গে লড়াই করছে। সরকারী তথ্যে বলা হয়েছে, এখন বিশ্বের মোট কোকেনের প্রায় ৭০ শতাংশ ইকুয়েডরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে পৌঁছায়।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিলেন লস লোবস ও লস চোনেরোসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে। তিনি অপরাধী চক্র দমনের লড়াইকে যুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সেনাদের এ যুদ্ধে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
এই সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র চক্রগুলোর সম্পদ জব্দ করতে পারবে, ইকুয়েডরের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে প্রাণঘাতী পদক্ষেপও নিতে পারবে।
এদিকে ইকুয়েডরে সহিংসতা ও অনিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় দেশটির নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসনও বেড়ে গেছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্টেলগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে কেউ সন্ত্রাসের শিকার হিসেবে সুবিধা পেতে পারেন, আবার কেউ যদি চাঁদা দিতে বাধ্য হয়ে থাকেন তবে সন্ত্রাসে সহায়তাোর অভিযোগে বিপাকে পড়তে পারেন।
এমএস/