দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আলাস্কায় আলোচিত কিন্তু ফলহীন শীর্ষ বৈঠকের তিন সপ্তাহ পরও ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে। এবার দায় চাপাতে একসুরে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—দুজনেই ইউরোপকেই দোষারোপ করছেন।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে হবে, কারণ শুধু ইউরোপীয় জ্বালানি আমদানি থেকেই গত এক বছরে রাশিয়া ১.১ বিলিয়ন ইউরো আয় করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইউরোপকে চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে, যেহেতু বেইজিংকেও অভিযুক্ত করা হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগানোর জন্য।
যদিও ইউরোপ ইতিমধ্যে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। একসময় রাশিয়া ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী, কিন্তু এখন সমুদ্রপথে রুশ তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে যেখানে ইউরোপে রুশ তেল আমদানির পরিমাণ ছিল ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে তা নেমে এসেছে মাত্র ১.৭২ বিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে, পুতিনও চীন সফরে ইউরোপকে দোষারোপ করে বলেছেন, মস্কো ইউরোপ আক্রমণ করবে—এমন অভিযোগ কেবল "হিস্টেরিয়া ছড়ানো"। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার কখনোই কাউকে আক্রমণ করার ইচ্ছে ছিল না।
মস্কোর কূটনীতিকরাও ইউক্রেন যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউরোপীয় সৈন্য পাঠানোর প্রস্তাবকে "অগ্রহণযোগ্য" বলে মন্তব্য করেছেন।
শান্তি প্রক্রিয়ায় সামান্য হলেও আলো দেখা গেছে বৃহস্পতিবার, যখন ট্রাম্প, জেলেনস্কি ও পশ্চিমা মিত্রদের ফোনালাপের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানান, যুদ্ধবিরতি হলে সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিতে ২৬ দেশ অঙ্গীকার করেছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনটি বিষয় জরুরি—ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করা, ইউরোপীয় সৈন্য মোতায়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।
তবুও শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্প শিগগিরই আবার পুতিনের সঙ্গে কথা বলার ইঙ্গিত দিলেও, ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে তার হাতে নতুন কোনো কার্যকরী পরিকল্পনা আছে বলে মনে হচ্ছে না।
এমএস/