দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে রবিবার হাজারো মানুষ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র–বামপন্থী সরকার কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়ে বলেছে— এসব সমাবেশ ঘৃণা ছড়ায় এবং চরম দক্ষিণপন্থি, এমনকি নব্য–নাৎসিদের সঙ্গে যুক্ত।
‘মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া’ নামে সংগঠনের ডাকে সিডনি, মেলবোর্নসহ রাজ্য রাজধানী ও আঞ্চলিক শহরগুলোতে সমাবেশ হয়। সংগঠনটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘অতিরিক্ত অভিবাসনের কারণে আমাদের সামাজিক বন্ধন ভেঙে পড়ছে।’ তারা আরও দাবি করে, মূলধারার রাজনীতিবিদেরা যেটি বলতে সাহস করেন না— তারা সেটিই বলছে: গণ–অভিবাসন বন্ধ করতে হবে।
সংগঠনটি অভিবাসনের কারণে সংস্কৃতি, মজুরি, যানজট, বাসস্থান সংকট, পানি সরবরাহ, পরিবেশ ধ্বংস, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও অপরাধসহ নানা সমস্যা বাড়ছে বলে অভিযোগ করে।
অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই বিদেশে জন্মেছেন বা তাদের বাবা–মা বিদেশি। দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নব্য–নাৎসি সংশ্লিষ্ট চরম দক্ষিণপন্থি উত্থান নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিক দলীয় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী মারে ওয়াট সিডনির বিক্ষোভকে নিন্দা জানিয়ে স্কাই নিউজকে বলেন, “এটি সমাজে সম্প্রীতি বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানোর জন্য। আমরা এসব সমাবেশ সমর্থন করি না।’ তিনি আরও দাবি করেন, নব্য–নাৎসি গোষ্ঠীগুলো এসব সমাবেশ আয়োজন ও প্রচার করছে।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় এ বছর থেকেই নব্য–নাৎসি সালাম ও সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতীক প্রদর্শন বা বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পেছনে ছিল ইসরায়েল–গাজার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সিনাগগ, ভবন ও গাড়িতে একের পর এক ইহুদিবিদ্বেষী হামলা।
সিডনির সমাবেশে ৫ থেকে ৮ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে জানায় এবিসি নিউজ। অনেকে অস্ট্রেলিয়ার পতাকা গায়ে জড়িয়ে আসেন। কাছেই অনুষ্ঠিত হচ্ছিল সিডনি ম্যারাথন, যেখানে ৩৫ হাজার দৌড়বিদ অংশ নিয়েছিলেন।
অভিবাসনপন্থি সংগঠন রিফিউজি অ্যাকশন কোয়ালিশন পাল্টা বিক্ষোভ করে। তাদের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি প্রমাণ করছে, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ চরম দক্ষিণপন্থার এজেন্ডা ঘৃণা করে।’
সিডনিতে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে কোনো বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি বলে পুলিশ জানায়। মেলবোর্নেও বড় সমাবেশ হয়, যেখানে দাঙ্গা পুলিশকে মরিচ–গুঁড়া ব্যবহার করতে হয় বলে খবর দিয়েছে এবিসি।
কুইন্সল্যান্ডে সমাবেশে যোগ দেন জনসমর্থনধারী রাজনীতিক বব ক্যাটারও। কয়েকদিন আগে নিজের লেবানিজ বংশ পরিচয় নিয়ে এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার পরও তিনি এই বিক্ষোভে অংশ নেন এবং সমর্থকদের দ্বারা ঘিরে থাকেন।
সিডনির এক বিক্ষোভকারী গ্লেন অ্যালচিন বলেন, ‘আমরা অভিবাসন কমাতে চাই। দেশ এখন গিজগিজ করছে। বাড়িঘর নেই, হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, রাস্তাঘাটে তীব্র চাপ— অথচ সরকার আরও মানুষ আনছে।’
এমএস/