দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা সিটির উপকণ্ঠে টানা বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, বহু পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এ অবস্থায় শহরটি দখলের পরিকল্পনা নিয়ে রোববার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার (৩১ আগস্ট) অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারান। গাজা সিটির একটি বাড়িতেও দুজন নিহত হয়েছেন।
শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দারা জানান, শনিবার থেকে টানা ট্যাংক ও বিমান হামলায় মানুষ পশ্চিমাঞ্চলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ইসরায়েল গত তিন সপ্তাহ ধরে গাজা সিটি ঘিরে হামলা বাড়াচ্ছে। শুক্রবার তারা এলাকায় দেওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিও তুলে নেয় এবং এটিকে সংঘর্ষপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা রেজিক সালাহ বলেন, 'পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে তারা শহরের ভেতরে ঢুকছে, একই সঙ্গে আকাশ ও স্থল থেকে হামলা চালিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে পালাতে বাধ্য করছে।'
রোববার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় গাজা সিটি দখলের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। ইসরায়েল জানিয়েছে, আগে তারা বেসামরিক মানুষ সরিয়ে নিতে চায়।
তবে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রধান মিরজানা স্পোলিয়ারিক সতর্ক করে বলেছেন, গাজা সিটি থেকে মানুষ সরাতে গেলে ভয়াবহ বাস্তুচ্যুতি ঘটবে, যা মোকাবিলার সক্ষমতা গাজার অন্য কোনো অঞ্চলের নেই। ইতোমধ্যেই খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে গাজার ২০ লাখ মানুষের অর্ধেকেরও বেশি গাজা সিটিতে অবস্থান করছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, কয়েক হাজার মানুষ কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে চলে গেছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনারা সতর্ক করেছে, এ ধরনের অভিযান গাজায় হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলের ভেতরে আন্দোলনও জোরদার হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৬৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক। খাদ্য সংকটে রবিবার আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে শিশুও রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছে ৩৩৯ জন, যার মধ্যে ১২৪ জন শিশু। তবে এসব মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েল দ্বিমত পোষণ করে।
এমএস/