দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাবি ও কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন। সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজধানী সানায় ওই হামলা চালানো হয় বলে শনিবার (৩০ আগস্ট) হুথিরা নিশ্চিত করেছে। এতে আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।
হুথিদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিষদের প্রধান মাহদি আল-মাশাত এক ভিডিও বার্তায় বলেন,'আমরা আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করছি, শহীদ ও আহতদের পরিবার এবং ইয়েমেনের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি— এই হত্যার প্রতিশোধ আমরা নেব, আর ক্ষতকে আমরা বিজয়ে পরিণত করব।'
এটি হুথিদের ইরান-সমর্থিত সরকারের ওপর ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। নিহত প্রধানমন্ত্রী আল-রাহাবি ছিলেন দলটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা, যাকে এ পর্যন্ত টার্গেট করেছে ইসরায়েল। হামলার সময় হুথি মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক চলছিল, যেখানে গত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হচ্ছিল এবং সংগঠনের গোপনীয় নেতা ভিডিও ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল।
হামলার পর হুথিদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসের আল-আতিফি হুথি টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমরা সব স্তরে প্রস্তুত, মার্কিন সমর্থিত ইসরায়েলি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।'
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, হুথি নেতৃত্বের ওপর এটি এক অভূতপূর্ব আঘাত। তার ভাষায়, হুথি প্রধানমন্ত্রী, অধিকাংশ মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিহত বা আহত হয়েছেন।
হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে লোহিত সাগরের জাহাজে হামলা চালাচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যদিও সেগুলোর বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েল হামাস ও হিজবুল্লাহর একাধিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে। গত বছর ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েল হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা করে। কয়েক মাস পর বৈরুতে বিমান হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ। গাজায় নিহত হন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং সম্প্রতি তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যুও নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি।
প্রথমবারের মতো এবার সরাসরি হুথি নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালাল ইসরায়েল। এর আগে ইয়েমেনে তাদের হামলা প্রধানত সামরিক ঘাঁটি বা বিদ্রোহীদের ব্যবহার করা অবকাঠামোতেই সীমিত ছিল। তবে এবার রাজধানী সানার প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ থাকা সামরিক ঘাঁটি, দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি মজুতস্থলেও আঘাত হানা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে। তখন থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিদ্রোহীদের ক্ষমতা সরানো যায়নি। বর্তমানে তারা উত্তর ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।