দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তীব্র মতপার্থক্যে জড়িয়েছেন। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে শনিবার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বৈঠকে এক পক্ষ ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দাবি জানালেও অপর পক্ষ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কায়া কালাস বৈঠকের শুরুতেই বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে বিভক্ত। একক অবস্থান না থাকলে আমাদের বৈশ্বিক কণ্ঠস্বরও শক্তিশালী থাকে না। এটা আমাদের জন্য বড় সমস্যা।’
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে গবেষণা তহবিলে প্রবেশাধিকার সীমিত করার একটি নরম প্রস্তাবও গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে শুরু হওয়া যুদ্ধকে ঘিরে ইইউর ২৭ দেশের ভেতরে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক দেশ বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এবং মানবিক সহায়তায় বাধার কারণে ইসরায়েলের সমালোচনা করছে। তবে কার্যকর রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপে ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি।
আয়ারল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস ইসরায়েলের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের দাবি তুলেছে। তবে জার্মানি, হাঙ্গেরি ও চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি এখন ইইউ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে আর কবে নেবে? শিশুদের তো ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে।’
জাতিসংঘের সহযোগী বৈশ্বিক ক্ষুধা মনিটর সম্প্রতি জানিয়েছে, গাজায় ইতিমধ্যেই দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। তবে ইসরায়েল এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইইউর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২.৬ বিলিয়ন ইউরো (৪৯.৯ বিলিয়ন ডলার)।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেপফুল জানান, তাদের দেশ ইসরায়েলকে মানবিক নীতিমালা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে এবং গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করেছে। তবে ইইউ গবেষণা তহবিল থেকে ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তার মতে, এই ধরনের বেসামরিক সহযোগিতা বন্ধ করা কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।
ইইউ কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, গবেষণা তহবিলের মতো ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে অন্তত একটি প্রাথমিক বার্তা দেওয়া সম্ভব। কারণ এ ক্ষেত্রে সর্বসম্মতি নয়, বরং সদস্যদেশের ১৫টির সমর্থন এবং জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্বই যথেষ্ট।
ইসরায়েল তার বিরুদ্ধে আনা সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, হামাসকে পরাজিত করতে এ যুদ্ধ অপরিহার্য এবং সামরিক অভিযান চলবে।
এমএস/