দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বহু বছরের উত্তেজনা ও সীমান্ত বিরোধের পর এবার সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী হলো চীন ও ভারত। দুই দেশের শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে এখন আস্থা গভীর হচ্ছে এবং তারা প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হতে চান।
বিবিসি জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার তিয়ানজিনে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন। সাত বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে গেছেন মোদি। বৈঠকে শি বলেন, চীন-ভারতের উচিত বন্ধু হয়ে এগোনো। জবাবে মোদি জানান, দুই দেশের মধ্যে এখন শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান এসসিও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২০টিরও বেশি দেশের নেতা। তবে বৈঠকের আড়ালে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নিষেধাজ্ঞার হুমকি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছেন রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখার কারণে। এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় মোদি শির কাছাকাছি হচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
মোদি বৈঠকে ঘোষণা দেন, ২০২০ সালে হিমালয় সীমান্ত সংঘর্ষের পর স্থগিত হওয়া চীন-ভারত ফ্লাইট আবার চালু হবে, যদিও সময়সীমা জানাননি। শি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত এবং বন্ধু হওয়ার সিদ্ধান্তই সঠিক পথ।
২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চার দেশ মিলে এসসিও গঠন করে পশ্চিমা জোট ন্যাটোর প্রভাব কমানোর জন্য। বর্তমানে সংগঠনের সদস্য ১০টি দেশ, পাশাপাশি ১৬টি পর্যবেক্ষক ও সংলাপ অংশীদার রয়েছে। এবারের আয়োজনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় সম্মেলন।
সম্মেলন ঘিরে তিয়ানজিন শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে শহর। রাতে নদীর ধারে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে ভবনজুড়ে আলোকসজ্জার শো উপভোগ করছে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সড়কে জনসমাগম ও যান চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের অযথা ঘোরাফেরা না করার পরামর্শ দিয়েছে।
এমএস/