দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ফিলিস্তিনিদের আফ্রিকার অশান্ত দেশ দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা করছে ইসরায়েল ও দক্ষিণ সুদান।
রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। তবে এই প্রস্তাবকে দ্রুতই ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি, তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই বছরের ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে নিয়ে যাওয়া হবে এমন একটি দেশে, যা বহু বছর ধরে রাজনৈতিক ও জাতিগত সহিংসতায় বিপর্যস্ত।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ মাসের শুরুতে গাজায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এই সপ্তাহে আবারও বলেন, ফিলিস্তিনিরা যেন স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়ে যায়।
আরব ও বিশ্ব নেতারা গাজার জনগণকে অন্য দেশে স্থানান্তরের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফিলিস্তিনিরা বলছে, এটি হবে আরেকটি “নাকবা”, যেমন ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে লাখো মানুষ পালিয়ে গিয়েছিল বা জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
সূত্র জানায়, গত মাসে ইসরায়েল সফরে গিয়ে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্ডে সেমায়া কুম্বার সঙ্গে বৈঠকে ফিলিস্তিনি পুনর্বাসনের প্রসঙ্গ ওঠে। তবে বুধবার দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের খবরকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেয়।
এই আলোচনার খবর প্রথমে জানায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ছয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে।
প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসুফ বলেছেন, “আমাদের জনগণকে দক্ষিণ সুদান বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার যে কোনো পরিকল্পনা বা ধারণা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।” একই সুরে কথা বলেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দপ্তর। তবে গাজায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত হামাস এ বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাসকেল এই সপ্তাহে দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা সফর করেছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনার মূল বিষয় ছিল না পুনর্বাসন। তার দাবি, “আমাদের আলোচনায় মূলত বৈদেশিক নীতি, বহুপাক্ষিক সংস্থা, দক্ষিণ সুদানের মানবিক সংকট এবং যুদ্ধ নিয়েই কথা হয়েছে।”
নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা ছেড়ে যেতে আগ্রহী ফিলিস্তিনিদের জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছেো। তবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি।
এমএস/আরএ