দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলি বিমান ও ট্যাংক গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে রাতভর তীব্র বোমাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে যাতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন গতি আনতে হামাসের নেতা খালিল আল-হাইয়া কায়রো পৌঁছেছেন।
গত জুলাইয়ের শেষ দিকে কাতারে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনাও অচলাবস্থায় শেষ হয়। ইসরায়েল ও হামাস দুই পক্ষই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় প্রস্তাবে অগ্রগতির অভাবের জন্য একে অপরকে দায়ী করে।
এরপর থেকে ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, তারা নতুন করে গাজা সিটিতে অভিযান চালাবে এবং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে। যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে শহরটি দখল করলেও পরে সেনা প্রত্যাহার করেছিল ইসরায়েল।
হামাস জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া মিশরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধ থামানো, ত্রাণ সরবরাহ ও গাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের বিষয়ে আলোচনা হবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাজায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা কুড়িয়েছে। সমালোচনার মধ্যে রয়েছে গাজার ২২ লাখ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি ও দুর্ভিক্ষের শঙ্কা। এমনকি ইসরায়েলের ভেতর থেকেও এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সেনাপ্রধান সতর্ক করে বলেছেন, এতে জীবিত জিম্মিদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং ইসরায়েলি সেনাদের জন্যও তা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জাপানসহ প্রায় ২৪টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, গাজার মানবিক সংকট “অকল্পনীয় মাত্রায়” পৌঁছেছে। তারা ইসরায়েলকে অবাধ ত্রাণ প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েল অবশ্য ক্ষুধার জন্য দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বরং তারা হামাসের বিরুদ্ধে ত্রাণ চুরির অভিযোগ করেছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ত্রাণ সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাস আলোচনার টেবিলে ফিরতে প্রস্তুত। কায়রো সফরকারী নেতারা এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবেন। হামাস মনে করে যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র উপায় হলো আলোচনা। তারা যেকোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে রাজি যা যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করবে।
তবে মূল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ফাঁক রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মাত্রা ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণের দাবি নিয়ে। হামাস জানিয়েছে, তারা একটি নিরপেক্ষ কমিটির কাছে গাজার শাসনভার হস্তান্তরে রাজি, তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে অস্ত্র ছাড়বে না।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করা পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না। তার কট্টর-ডানপন্থী জোট গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে।
মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকরা জানান, গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় দুটি বাড়িতে বোমাবর্ষণে ৭ জন নিহত হন এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
আরএ