দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কেনিয়ায় সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৩৬১ জন এবং নিখোঁজ আছেন অন্তত ৩২ জন। দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৬২৭ জন।
কেনিয়ার মানবাধিকার সংস্থা দ্য কেনিয়া ন্যাশনাল কমিশন অন হিউম্যান রাইটস (কেএনসিএইচআর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, চলমান আন্দোলনে এ পর্যন্ত নিহতের সরকার প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বাস্তবে প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যাক ব্যাক্তিকে হত্যা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার প্রায় সব ধরনের পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধিসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয় কেনিয়ার পার্লামেন্টে। প্রস্তাবটি পাসের সঙ্গে সঙ্গেই পার্লামেন্ট চত্বরসহ পুরো নাইরোবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট চত্বরের একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন, বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি শুরু করে পুলিশ।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগ, যিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছেন। সেই নির্বাচনের পর থেকেই কেনিয়ায় দিন দিন রাজনৈতিক বিভক্তি তীব্র হয়ে উঠেছে।
গত মঙ্গলবার যখন আইনপ্রণেতারা বিতর্কিত আইন পাস করতে চেয়েছিলেন তখন বেশিরভাগই তরুণ জেনারেল-জেড বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্বে ব্যাপকভাবে শান্তিপূর্ণ ট্যাক্স-বিরোধী সমাবেশগুলি মারাত্মক সহিংসতার কারণে মর্মান্তিক পরিণতি লাভ করে।
ভোট ঘোষণার পর জনতা কেন্দ্রীয় নাইরোবির সংসদ কমপ্লেক্সে লুটপাট চালায় এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর কারণে এটি আংশিকভাবে আগুনে পুড়ে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো রোববার জাতির উদ্দেশে ভাষণে আন্দোলনে ১৯ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে তাদের মৃত্যুর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়ী নয়, নিজেদের মধ্যে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন তারা।
ভাষণে রুটো আরো বলেছেন, আপাতত নিকট ভবিষ্যতে পদত্যাগ করার কোনো প্রকার ইচ্ছা বা পরিকল্পনা তার নেই।
কেএনসিএইচআর জানিয়েছে, রোববারের ভাষণ সম্প্রচারের পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা এখন ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগও শুরু করেছেন।
সেই সঙ্গে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ডাকও দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। কেনিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ভরে উঠেছে ‘সব জায়গা দখল করো’, ‘রুটোর বিদায় চাই’, ‘বাজেট দুর্নীতিবাজদের বাতিল করো’ প্রভৃতি হ্যাশট্যাগে।
সূত্র: আল জাজিরা।
এমএ