দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইসরায়েলে অতর্কিত হামলায় ব্যাপারে হামাসকে পরিকল্পনা করতে সহায়তা করেছিল। এমনকি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামাসের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই হামলার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছিল ইরান। খবর আল আরাবিয়া’র।
এই হামলার পরিকল্পনা এবং অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। হামাস ও হিজবুল্লাহ’র সিনিয়র কর্মকর্তাদের বরাতে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলে কিভাবে জল, স্থল ও অন্তরীক্ষ থেকে হামলা চালানো যায় সে ব্যাপারে গত আগস্ট থেকে হামাসের নেতাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাচ্ছে আইআরজিসি। শনিবারের এই আচমকা হামলা ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধের পর এই প্রথম এত ব্যাপকভাবে সীমানা অতিক্রম করেছে।
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাতে ইসরায়েলে ৬ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। আর গাজার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত নিয়ে বৈরুতে দফায় দফায় বৈঠক করেন আইআরজিসি ও হামাসের কর্মকর্তারা। তবে ওই বৈঠকে শুধু হামাসই নয়, হিজবুল্লাহসহ ইরান সমর্থিত আরও দুটি সশস্ত্র গ্রুপের প্রতিনিধিদল ছিল। যতিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন রোববার বলেছেন, এই হামলার পেছনে ইরান কোনোভাবে জড়িত তার সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু এসব সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
মিটিংয়ের ব্যাপারে হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা মাহমুদ মিরদাউয়ির সঙ্গে কথা বলেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তিনি দাবি করেন, হামাস স্বাধীনভাবেই এই হামলার পরিকল্পনা করেছে। এই হামলাকে ‘ফিলিস্তিনি ও হামাসের সিদ্ধান্ত’ বলেও বর্ণনা করেছেন মিরদাউয়ি।
মার্কিন গণমাধ্যমটি তাদের প্রতিবদেন হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর সদস্য ও একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, আইআরজিসির পরিকল্পনার ছিল বিভিন্ন দিক থেকে ইসরায়েলকে ঘিরে ফেলা। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশ হওয়ার কথা ছিল হিজবুল্লাহ, পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন, ইসলামিক জিহাদ ও হামাস।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি রোববার বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের রক্ষার বিষয়টিকে সমর্থন করে তেহরান। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, এই অঞ্চলের বিপদ হচ্ছে ইসরায়েল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রায়িসিকে বলতে শোনা যায়, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মরক্ষার বৈধ দাবির স্বপক্ষে সমর্থন রয়েছে ইরানের।
এইউ