দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এল নিনোর প্রভাবে তীব্র খরা ও আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বলিভিয়াজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ দ্রুত সরবরাহের লক্ষ্যে শনিবার এ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, জরুরি অবস্থার আওতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলগুলোর কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খরা ও বন্যার কারণে দেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।
সরকারের চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার ৯টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার সংকটে পড়েছে। মারা গেছে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার নয়টি বিভাগের মধ্যে ছয়টিতে খরার কারণে ৭৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া খরা পরিস্থিতির ফলে ইতোমধ্যে ৭৫ হাজারেরও বেশি গবাদি পশু মারা গেছে।
বলিভিয়া নিয়মিত প্রাকৃতিক বন্যার ঝুঁকি এবং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সান্টা ক্রুজ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সর্বকালের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, গত মাসে পেরুতে দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি ‘এল নিনো’ সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছরে একবার দেখা দেয়, যা পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া চক্রেরই একটি অংশ। এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের পানি উষ্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে—যার পরিণতিতে ঘনঘন চরম আবহাওয়া সৃষ্টি হয়।
কেএম