দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রধান বিরোধী দলকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী তেল আবিবে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এটিই হয়তো দেশটিতে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’। নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী এবং তাকে একজন ‘বড় চালবাজ’ হিসেবে আখ্যা দেন তারা।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর নেতাদের প্রতি বিক্ষোভকারীদের বার্তা স্পষ্ট—নেতানিয়াহুকে সরাতে পার্লামেন্টে ৬৭টি আসনের সমর্থন পাওয়া সম্ভব।
এই ৬৭টি আসনের মধ্যে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের নেতৃত্বাধীন আরব দলগুলোর ঐতিহাসিক ১৯ আসনের জোটও রয়েছে। তবে বিরোধী নেতা ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোট সরকার গঠনের বিষয়ে এত দিন এসব দলের সঙ্গে আলোচনা করতে কিংবা তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহু কিংবা তার জোটের শরিকদের সঙ্গে সরকার গঠন না করার প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে হলে আইজেনকোটকে শেষ পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে এবং তাদের সমর্থন নিতে হবে।
আল জাজিরা জানায়, তেল আবিবের রাজপথে বেশ আবেগঘন পরিবেশ দেখা গেছে। পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া মানুষ এখন এর সফল বাস্তবায়ন দেখতে চায়। বিক্ষোভকারীদের বিশ্বাস, আইজেনকোট ও ইহুদি-ইসরায়েলি দলগুলোর অন্য নেতাদের জনগণের এই আকাঙ্ক্ষার কথা শুনতে হবে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু শিবিরের ডানপন্থি সমর্থকেরাও পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন। সেখানে তারা স্লোগান দিয়ে দাবি তুলেছেন, ইসরায়েলে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীদের’ নিয়ে কোনো সরকার গঠন করা চলবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডানপন্থি মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনী অংশগ্রহণকে তারা ‘নির্বাচনী সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিচ্ছেন এবং একে ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে তুলনা করছেন।
মূলত ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ভোট ও মতামত এখন বড় ভূমিকা রাখছে। একইসঙ্গে সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করতে আইজেনকোট পর্যাপ্ত সমর্থন পাবেন কি না, সেটিও নির্ভর করছে তাদের ওপর। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
কেএম