দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব। এর প্রভাব পড়ছে গর্ভবতী নারী ও অনাগত সন্তানের ওপরও। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গর্ভপাত, মৃত সন্তান জন্ম এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমনকি গর্ভবতী মায়ের উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চার মহাদেশের প্রায় ২০০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা করে গবেষকেরা দেখেছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভাবস্থায় নানা জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভবতী নারীর বসবাসের এলাকার গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পরবর্তী দিনগুলোতে অপরিণত সন্তান জন্মের আশঙ্কা ৪ শতাংশ বেড়ে যায়। আর তাপপ্রবাহের পরের সপ্তাহে এই ঝুঁকি বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ শতাংশে।
মেক্সিকোর ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি শিশুর জন্মের তথ্য বিশ্লেষণ করেও একই প্রবণতা পেয়েছে রয়টার্স। সেখানে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার শেষ চার সপ্তাহে তাপপ্রবাহ বা তীব্র গরমের মুখে পড়লে অপরিণত সন্তান জন্মের হার গড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ে। তাপের সংস্পর্শ যত বেশি, ঝুঁকিও তত বেশি। সর্বোচ্চ তাপের সংস্পর্শে এই হার বেড়েছে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ আফ্রিকার চিকিৎসা গবেষক দারশনিকা লাখুর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। গর্ভাবস্থায় জোহানেসবার্গে একের পর এক তাপপ্রবাহের মুখে পড়েন তিনি। তার গর্ভে ছিল যমজ সন্তান। পরে নানা জটিলতার মধ্যে গর্ভাবস্থার ছয় সপ্তাহ আগেই সন্তান জন্ম দিতে হয় তাকে। তবে তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপমাত্রাই যে অপরিণত সন্তান জন্মের একমাত্র কারণ, তা নিশ্চিত নয়।
গবেষকেরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে মায়ের শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি প্লাসেন্টার জটিলতা ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে আগে থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা নারী, দরিদ্র পরিবারে বসবাসকারী এবং যমজ সন্তানের গর্ভধারণ করা নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।
কে