দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন এক কৌশল নিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তবে তাদের এই অস্ত্র কোনো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টিনের নাম। এপস্টিনের সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং পবিত্র কাবার গিলাফসদৃশ কাপড় উপহার দেওয়ার তথ্যকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে গোষ্ঠীটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এপস্টিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব নথি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিভিন্ন ধাপে প্রকাশ করেছে, সেগুলোর নির্দিষ্ট কিছু তথ্যকে প্রচারের কেন্দ্রে রেখেছে হুতিরা। এসব নথিতে সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এপস্টিনকে কাবার গিলাফের নকশা ও আবরণসংবলিত কাপড় উপহার দেওয়ার তথ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিরা বিবৃতি, ভিডিও, গান, বক্তৃতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের পোস্টের মাধ্যমে এই প্রচার চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য সৌদি আরবসহ প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা। সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন করে, যার সঙ্গে হুতিদের গৃহযুদ্ধ চলছে।
চলতি গ্রীষ্মে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হুতিদের এই প্রচার আরও গতি পেয়েছে। এসব প্রচারে নিজেদের ইসলামের রক্ষক এবং বিদেশি প্রভাবের বিরোধী শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে গোষ্ঠীটি।
গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হুতিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে হুতিরা এই অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কায় অবস্থিত কাবা মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল মাশাত গোষ্ঠীটির সরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফ দিয়েছে, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।’
এপস্টিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ এবং কাপড় উপহার দেওয়ার প্রতিবেদন নিয়ে সৌদি কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত হুতিদের অভিযোগের জবাব দেননি।
হুতিদের নেতা মাহদি আল মাশাতের বক্তব্য গোষ্ঠীটির বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের কৌতুকশিল্পী মুস্তাফা আল মোমারি এ বিষয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার অনুসারীর সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের একজন ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পীও এই অভিযোগ নিয়ে একটি গান লিখেছেন।
২০২৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হুতি ও সৌদি আরবের বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করা মুস্তাফা আল মোমারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানেরও সমালোচনা করেছেন।
এদিকে, এপস্টিনের বিষয়টি হুতি নেতাদের বক্তৃতাতেও বারবার উঠে আসছে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করে মারা যান এপস্টিন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তিনি একজন ইহুদি ও ধর্মনিরপেক্ষ মার্কিন নাগরিক ছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক ভাষণে হুতিদের নেতা আবদুল মালিক আল হুতি বলেন, ‘এপস্টিনের নথিগুলো গুরুতর মনোযোগ দাবি করে। এগুলো এমন একটি জায়নবাদী প্রজননকেন্দ্রের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের তৈরি করা হয়।’
হুতিদের এই কৌশল কিছু ক্ষেত্রে তাদের বাইরেও মনোযোগ আকর্ষণ করছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এপস্টিনের নথি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করা জনপ্রিয় ডানপন্থী পডকাস্ট উপস্থাপক জেক শিল্ডস হুতিদের প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।
হুতিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বড় ভক্ত। আমার মনে হয়, তারা বেশ দুর্ধর্ষ।’
/অ