দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে নাগচু অঞ্চলের বাৎসেন জেলায় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল। স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
চীনের ১৯৫০-এর দশকে তিব্বত দখলের পর অঞ্চলটি তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বাৎসেন জেলা আঞ্চলিক রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের পর কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে।
এ ছাড়া পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্গম ও উঁচু পার্বত্য এলাকায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। তিব্বতের ছামদো ও নিংচি শহরেও ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধকারের মধ্যে ভবনগুলো প্রবলভাবে কাঁপতে থাকায় গ্রামবাসীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলটিতে এর আগেও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের পার্শ্ববর্তী গানসু প্রদেশের পার্বত্য এলাকায় ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
এদিকে, হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসে দুই মাসেরও কম সময় আগে তিব্বত ও নেপাল ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। এ ছাড়া আরও কয়েক শ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন ধরে অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসা তিব্বত চীনের সবচেয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর একটি। সেখানে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত এবং তথ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় এ ধরনের দুর্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও বিস্তারিত তথ্যের প্রধান উৎস হয়ে ওঠে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
/অ