দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে বিমানের ভেতরেই আটক হয়েছেন জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এ সময় দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয়।
বিমানের ভেতরে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ ও আটকের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন দীপকে। পরে তিনি ভিডিওটি প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে জনতা পার্টির নেতাদের তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। বিমান থেকে নামার পর তাদের আটক করা যেত বলে পুলিশের কাছে প্রশ্ন তোলেন তারা।
ভিডিওতে নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দীপকেকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা আমাদের বিমান থেকে নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন। আসুন, আমাদের আটক করুন। আমরা ভয় পাই না।’
পরে বিমানবন্দর থেকে পুলিশ সদস্যরা তিন নেতাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানায়নি পুলিশ।
এর আগে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন দীপকে। যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ বিক্ষোভের ডাক দেয় জনতা পার্টি।
তিন নেতাকে আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে দলটি। এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘কর্তৃত্ববাদী আটক’ হিসেবে উল্লেখ করে জনতা পার্টি দাবি করে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরুর আগেই নেতৃত্বকে নিষ্ক্রিয় করতে দিল্লি পুলিশ পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে। চলাচলের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে দলটি।
এর আগে শনিবার সকালে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও জনতা পার্টির আইনবিষয়ক শাখার প্রধান রত্না সিংকেও তাদের বাসা থেকে আটক করা হয়। বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঠেকাতেই তাদের আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতভর চার শতাধিক সন্দেহভাজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
শুক্রবার জনতা পার্টির বিক্ষোভের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় দিল্লি পুলিশ। নির্ধারিত সময়ের যথেষ্ট আগে অনুমতির আবেদন করা হয়নি বলে জানায় পুলিশ।
বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস
/অ