দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইট নিয়ে তদন্তের পর উড়োজাহাজে ব্যবহৃত কুড়ালটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। কেন এ ধরনের একটি হাতিয়ার ককপিটে রাখা হয় এবং মূলত এটি কী কাজের জন্য তৈরি, তা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল চ্যান্সেলর ড. হামাদ সাইফ আল শামসি জানান, ফ্লাইটটির ফার্স্ট অফিসার বা সহ-পাইলট একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা তদন্তকারীদের। ককপিটের ভেতরে থাকা জরুরি ক্র্যাশ এক্স দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেন তিনি। ওই সহ-পাইলট মূলত উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চালান।
উড়োজাহাজের পরিচালন সংক্রান্ত বিষয়াদির বিশেষায়িত উৎস ‘ইজি’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে যে সব স্থানে সহজে পৌঁছানো সম্ভব নয়, ক্রুরা যেন সেখানে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে পারেন; সে লক্ষ্যেই হাতিয়ারটি তৈরি করা হয়েছে।
ফ্লাইটে আগুন ধরলে তার উৎসে পৌঁছাতে, উড়োজাহাজের প্যানেলের পেছনের ওয়্যারিং বা যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে কিংবা সমস্যাযুক্ত স্থানে পৌঁছানোর জন্য কেবিনের কোনও অংশ বা বাধা সরিয়ে ফেলতে হাতিয়ারটি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে উড়োজাহাজের দরজা বা জরুরি নির্গমন পথ খোলার জন্য এই কুড়াল তৈরি করা হয়নি। সেগুলো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ও নিয়ম মেনেই খোলা হয়ে থাকে।

জরুরি অবস্থায় দ্রুত কোনও স্থানে পৌঁছানোর প্রয়োজন হলে যেন ক্রুরা নির্দিষ্ট কোনও বস্তু সহজেই কেটে বা সরিয়ে ফেলতে পারেন, সেটাই ক্র্যাশ এক্সের মূল উদ্দেশ্য। এ কারণেই এটি এমন এক স্থানে রাখা হয়, যেন সাধারণ চলাচলের সময় তা যাত্রীদের নাগালের বাইরে থাকে, আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রু সদস্যরা সহজেই তা হাতে পান। একটি সাধারণ গৃহস্থালি বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কুড়ালের চেয়ে এই ক্র্যাশ এক্স সম্পূর্ণ আলাদা। এটি বিশেষভাবে এভিয়েশন বা বিমান চলাচলের পরিবেশের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন রেগুলেশন অনুসারে, ১৯ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম যেকোনও উড়োজাহাজে একটি ক্র্যাশ এক্স রাখা বাধ্যতামূলক।
লিগ্যাল ইনফরমেশন ইনস্টিটিউট-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিচালন সংক্রান্ত অন্যান্য নিয়মাবলীতেও উল্লেখ করা আছে, সাধারণ ফ্লাইট চলাকালীন সরঞ্জামটি যাত্রীদের নাগালের বাইরে রেখে কেবল ক্রুদের নাগালের মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে।
এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের তদন্তকে কেন্দ্র করেই কুড়ালটি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নিয়ম লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতে এই জরুরি সরঞ্জামটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
কেএম